বাংলাদেশভারতরাজনীতি

দিল্লিতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের সময় মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় নয়াদিল্লির ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই তাঁদের প্রথম প্রকাশ্য মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আইনি চ্যালেঞ্জ ও মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়েও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন।

তিনি বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে। জনগণের প্রতি আমার কর্তব্য পালনে ভয় কোনো বাধা হতে পারে না।”

২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, সেটি কেবল একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং শিক্ষার্থীদের দাবিকে কিছু সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর সরকারের সময়ে অর্জিত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন বর্তমানে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। গত দুই বছরে দেশের মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার জন্য যে আত্মত্যাগ হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সামঞ্জস্য নেই।

শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে তাঁর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ও রায় দেওয়া হচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, গণতন্ত্র ও শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে “অসাংবিধানিক” ও “অবৈধ” বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বক্তব্য প্রচারে সেন্সরশিপ আরোপ করা হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, হামলা, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য তিনি সরকারের নীতিকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সভাপতিত্ব করেন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবস (IAPC)-এর প্রতিনিধি ডা. ওয়ায়েল আওয়াদ।

ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মী, কূটনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবাইদা আরিন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ-এর পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বিরতির পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আবারও প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি মিডিয়া সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানায়, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে, দিল্লির মাটি থেকে এ ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension