
ইংল্যান্ডের কাছে ৩১ রানে হেরে ‘অপরাজিত’ তকমা ঘুচল কোহলিদের
রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: না, রেকর্ড রান তাড়া করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনতে পারলেন না ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া পাহাড়প্রমাণ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ৩১ রান দূরেই থমকে যেতে হল কোহলিদের। একইসঙ্গে টুর্নামেন্টে ‘অপরাজিত’ থাকার তকমা ঘুচল টিম ইন্ডিয়ার।
রোহিতের শতরান, বিরাটের অর্ধশতরান সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ৩৩৮ রানের লক্ষ্যমাত্রার জবাবে ৩০৬ রানেই থমকে গেল ভারতের ইনিংস। দীর্ঘায়িত হল সেমিফাইনালে ওঠার অপেক্ষা।
ব্যাটিং সহায়ক পিচে এজবাস্টনে রবিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংরেজ অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। বেয়ারস্টো-স্টোকসদের ব্যাটিং তান্ডবে স্কোরবোর্ডে এদিন ৩৩৭ রান খাড়া করে থ্রি-লায়ন্সরা। জবাবে শুরুতে কেএল রাহুলের উইকেট হারালেও ডেপুটি রোহিত ও অধিনায়ক কোহলির ব্যাটে একসময় বিশ্বকাপে রেকর্ড রান তাড়া করে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ভারতীয় শিবির।
দলীয় ৮ রানের মাথায় রানের খাতা না খুলেই এদিন ওকসের শিকার হন রাহুল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে রোহিত-কোহলির ১৩৮ রানের পার্টনারশিপে একসময় ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে মেন ইন ব্লু। টানা পঞ্চম ম্যাচে অর্ধশতরান পূর্ণ করে ধারাবাহিকতার নিদর্শন রাখেন অধিনায়ক বিরাট।
২৮.২ ওভারে দলীয় ১৪৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর রান রেটে কিছুটা ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। ৭টি চারের সাহায্যে ৭৬ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে আউট হন দলনায়ক। এরপর পন্তকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় শতরানটি পূর্ণ করেন রোহিত শর্মা। যদিও শতরানের পর দীর্ঘায়িত হয়নি রোহিতের ইনিংস। ১৭টি চারের ১০৯ বলে ১০২ রান করে ওকসের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। বিশ্বকাপ অভিষেকের মঞ্চে এরপর পান্ডিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রান রেট বাড়াতে উদ্যত হন ঋষভ পন্ত। রোহিত শর্মার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৫২ ও পান্ডিয়ার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ২৮ রানের অবদান রেখে ব্যক্তিগত ৩২ রানে (২৯ বল) সাজঘরে ফেরেন পন্ত।
ধোনির সঙ্গে জুটি বেঁধে ৩৩ বলে ঝোড়ো ৪৫ রানের ইনিংসে শেষ চেষ্টা করেছিলেন পান্ডিয়া। কিন্তু ইংরেজ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রয়োজনীয় রান রেট ক্রমাগত হারে বাড়তে থাকে। তাই পান্ডিয়া আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ললাটলিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। ৩১ বলে জয়ে জন্য প্রয়োজন ৭১ রান। এমন সময় ক্রিজে ধোনির সঙ্গে যোগ দেন কেদার যাদব। কিন্তু শেষ ৫ ওভারে নিজেদেরকে দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে ম্যাচ জেতানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানের পক্ষে। পাশাপাশি ডেথ ওভারে ইংরেজ বোলারদের অনবদ্য বোলিংও প্রশংসার দাবি রাখে। শেষ অবধি লক্ষ্যমাত্রা থেকে খানিকটা দূরেই থমকে যায় ভারতের ইনিংস। ধোনি ৩১ বলে ৪২ ও যাদব ১৩ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩১ রানে ম্যাচ জিতে শেষ চারের স্বপ্ন প্রবলভাবে জিইয়ে রাখে ইংরেজরা।
টস জিতে এদিন ভারতীয় বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে স্কোরবোর্ডে পাহাড়সম রান তোলে ইংল্যান্ড। বেয়ারস্টো-রয়ের ১৬০ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপেই ম্যাচে ব্যাকফুটে চলে যায় কোহলির দল। ৫৭ বলে ৬৬ রান আসে রয়ের ব্যাট থেকে। বেয়ারস্টো খেলেন ১০৯ বলে অনবদ্য ১১১ রানের ইনিংস। রুটের ৪৪ এবং শেষদিকে স্টোকসের ৫৪ বলে বিস্ফোরক ৭৯ রান ভর করে ৩৩৭ রানে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ১০ ওভারে ৮৮ রান খরচ করে ভারতীয় বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বাধিক রান দেওয়ার নজির গড়েন চাহাল। ইংরেজ ব্যাটসম্যানসদের সামনে অসহায় কুলদীপ ও পান্ডিয়া ১০ ওভারে খরচ করেন যথাক্রমে ৭২ রান ও ৬০ রান। ৫ উইকেট ঝুলিতে ভরলেও ১০ ওভারে ৬৯ রান খরচ করেন শামি। তুলনায় যথেষ্ট উজ্জ্বল বুমরাহ ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট।



