আন্তর্জাতিকপ্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিগগিরই: বাইডেন-স্টারমার রুদ্ধদ্বার বৈঠক

রাশিয়ায় হামলা চালাতে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এ বৈঠক হয়। এটা ভয়ানক ও বিস্তৃত যুদ্ধ নিয়ে তাদের উদ্বেগের নতুন প্রমাণ।

বাইডেনকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে– তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ছাড়পত্রে সই করবেন কিনা। দুই-আড়াই বছর ধরে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র দিলেও এ সিদ্ধান্ত আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কিন্তু তিনি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কোনো আশ্বাস দেননি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পেলে ইউক্রেন রাশিয়ার অনেক ভেতরে হামলা চালাতে সক্ষম হবে। সাংবাদিকদের বাইডেন বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে আলাপ করছি।’ এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী কয়েক মাস হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাধীনতার লড়াইয়ে ইউক্রেনকে আমাদের সহায়তা করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইউরোপের কর্মকর্তারা বলেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহের অনুমোদন দিতে বাইডেনকে প্রস্তুত মনে হচ্ছে। তবে বাইডেন এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র এটাও মনে করছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এটাকে ‘বড় উস্কানি’ হিসেবে নিতে পারেন। এ নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো জোটভুক্ত দেশের তথা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে নামার শামিল।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলে বড় ধরনের প্রত্যাঘাতে যেতে পারে রাশিয়া। তিনজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, রাশিয়া ও এর আশপাশে ব্রিটিশ সামরিক সম্পদের ওপর হামলা চালাতে পারে ক্রেমলিন। সে ক্ষেত্রে ‘উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য’ পারমাণবিক অস্ত্রের একটি পরীক্ষাও দেখা যেতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ একটি নতুন ও ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যেই বৈঠক করলেন বাইডেন ও স্টারমার। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিলে যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন হবে বলে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পুতিন স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ‘যথাযথ জবাব’ দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন। জার্মানির হ্যামবুর্গের ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসির অস্ত্র বিশেষজ্ঞ উলরিচ কোহেন বলেন, এমনটা হলে পুতিনের পরমাণু বোমা হামলা চালানোর সংকেত দেওয়ার বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পশ্চিমাদের দমাতে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষ চালাতে পারেন। এটা গুরুতর উস্কানি হতে পারে।

অস্ট্রিয়ার ইন্সব্রুক ইউনিভার্সিটির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ গেরহার্ড ম্যানগট বলেন, রাশিয়ার জবাবের মধ্যে থাকতে পারে পরমাণু হামলার ইঙ্গিত। তারা পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালাতে পারে।

১৯৯০ সালের পর কখনও পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়নি বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরমাণু অস্ত্রধর দেশ। গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিলে পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশের বিরুদ্ধে ন্যাটো সরাসরি লড়াইয়ে যাবে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ান জানায়, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বড় ধরনের বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ১০৩ জন মুক্ত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে শনিবার এ বন্দিবিনিময় হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension