ইউরোপে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ শতাংশ
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি এই ৮ মাসে ইউরোপের বাজারে ১ হাজার ৫৭২ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩৭৫ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপের বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি হয়েছে জার্মানিতে।
এই ৮ মাসে দেশটিতে ৪৬২ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যদিও তা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৬৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার।
এরপরই রয়েছে স্পেনের বাজার। দেশটিতে এই সময়ে ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১৯৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার।
এক বছর ব্যবধানে স্পেনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বাজারেও এ সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের পোশাক।
যা গত অর্থবছরের একইসময়ে ছিলো ১৪৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। দেশটিতে এক বছর ব্যবধানে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
পোশাক রপ্তানিতে ইতালিতেও রপ্তানির ধারা রয়েছে বেশ ইতিবাচক। ইপিবির তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৫৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। যা তার আগের অর্থবছরে ছিল ৯৯ কোটি ১২ লাখ ডলারে। বছর ব্যবধানে দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৬ দশমিক ১৪ শতাংশ।
একইসাথে নেদারল্যান্ডসেও বেড়েছে পোশাক রপ্তানি। এক বছর ব্যবধানে দেশটিতে ১২৫ কোটি ২৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা তার আগের অর্থ বছরের একইসময়ে ছিল ৯৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারে।
এতে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩১ দশমিক ১২ শতাংশ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য প্রধান দেশ অস্ট্রিয়ায় ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, সুইডেনে ২৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ফিনল্যান্ডে ৬৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, গ্রীসে ৫১ দশমিক ০২ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পোল্যান্ডে ১৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং বুলগেরিয়ায় ৫১ দশমিক ২১ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।
ইউরোপের বাজারে বাড়লেও রপ্তানির নেতিবাচক ধারা দেখা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। দেশটিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে ৫৬০ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। যা তার আগের অর্থবছরের এক সময়ে ছিল ৫৭৭ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। এতে এক বছর ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
তবে যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যে ৩৩৬ কোটি ডলার এবং কানাডায় ৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা তার আগের অর্থবছরের একইসময়ে ছিলো যুক্তরাজ্যে ২৯৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং কানাডায় ৮১ কোটি ৭১ লাখ ডলারে।
এ সময়ে প্রচলিত বাজারেও দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ০২ শতাংশ। এই ৮ মাসে অপ্রচলিত বাজারে ৫৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪২১ কোটি ১১ লাখ ডলারে।
অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে সর্বাধিক পোশাক রপ্তানি হয়েছে জাপানে। দেশটিতে এই ৮ মাসে ১০৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিলো ৭২ কোটি ৮৬ লাখ ডলারে। অর্থাৎ এক বছর ব্যবধানে দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অন্যান্য অপ্রচলিত বাজার মালয়েশিয়ায় ৮৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, মেক্সিকোতে ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ, ভারতে ৬১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, ব্রাজিলে ৭৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩৯ দশমিক ৮১ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে পণ্য পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে আয় করেছে ৩ হাজার ১৩৬ কোটি ১৮ লাখ ডলার। এতে রপ্তানি আয় এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ০৬ শতাংশ।
রপ্তানি আয়ের বিষয়ে বিজিএমইএ’র পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইউরোপের মধ্যে জার্মানির বাজার আমাদের বড় মার্কেট সেখানে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এক্ষেত্রে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। ইউরোপের বাজারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কাজ করতে হবে। অপ্রচলিত বাজারে আমাদের রপ্তানি ভালো হচ্ছে। অপ্রচলিত বাজারে ফোকাস আরও বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই আভাস দিচ্ছিলাম যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানি কমতে পারে। তাই হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে। ২০২৩ সাল আমাদের কিছুটা খারাপ গেলেও তবে ২০২৪ সাল আমরা আশা করছি খুব ভালো করবো। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য এখন পণ্য এবং বাজার বৈচিত্র্যের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানোর। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে রপ্তানি আয় ইতিবাচক রাখাই মূল্য উদ্দেশ্য এ খাতের ব্যবসায়ীদের।’



