
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলা, আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছেন হাজারও মানুষ
লেবাননে গতকাল কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় এরই মধ্যে প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি হামলার জবাবে পাল্টা হামলা করছে হিজবুল্লাহ। তাদের পাল্টাপাল্টি হামলায় ভয়ে-আতঙ্কে দক্ষিণ লেবানন ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবারও পাল্টাপাল্টি হামলা করেছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর হামলা চালিয়েছেন তারা। অন্যদিকে একই দিন সকালে হিজবুল্লাহ জানায়, তারাও ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) ভেতরে থাকা একটি বিস্ফোরক কারখানা রয়েছে। এই হামলায় তারা ফাদি সিরিজের রকেট ব্যবহার করেছে।
ইরানপন্থী প্রতিরোধ যোদ্ধাদলটি বলছে, তারা ভোর ৪টার দিকে বিস্ফোরক কারখানায় হামলা করেছে এবং মেগিডো বিমানঘাঁটিতে তিনটি আলাদা সময়ে হামলা চালিয়েছে।
প্রায় এক বছর ধরে সীমান্তে পাল্টিপাল্টি হামলা করে আসছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও ইসরায়েলি সেনারা। তবে সম্প্রতি গাজা থেকে নিজেদের যুদ্ধের মূল ক্ষেত্র লেবাননে বদলি করার ঘোষণা দেয় নেতানিয়াহু সরকার। এই ঘোষণার পর থেকেই দেশটিতে একের পর এক ভয়াবহ হামলা করে আসছে ইসরায়েলি সেনারা।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবারের (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি হামলায় ৩৫ শিশুসহ অন্তত ৪৯২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৪৫ জন আহত হয়েছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর দেশটিতে গতকালই একদিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেলেন।
এদিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের খুঁজে বাড়িঘর ছাড়ছেন দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দারা। প্রাণ ভয়ে ভ্যান, ট্রাক ভর্তি করে দলে দলে নারী, শিশু, তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবাই ছুটছেন। তাদের বহনকারী যানবাহনের চাপে উত্তরের মহাসড়কগুলোতে জ্যাম তৈরি হয়েছে।
এক লেবানিজ ব্যক্তি জানান, ওখানে হামলা হচ্ছিল। তাই আমরা গাড়িতে উঠে এখানে চলে এসেছি। আমরা জানি না পেছনে কী আছে।
লেবাননের সংকট মোকাবিলায় সমন্বয়কারী মন্ত্রী নাসের ইয়াসিন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে ৮৯টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ২৬ হাজারের জনের বেশি মানুষ থাকতে পারবেন।



