
ট্রাম্পের স্বাক্ষর মূল্যহীন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবিস্মরণী শিক্ষা দেব: মোজতবা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে ইরানি জাতি ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ ওয়াশিংটনকে এমন ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেবে, যা তারা কখনো ভুলবে না। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরকে ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন, অবৈধ ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল-আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে প্রায় এক মাস আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত যে ইরানি জাতি এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ কাছে তাদের জন্য ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ অপেক্ষা করছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জনসমক্ষে না আসা খামেনির নামে দেওয়া নতুন এই বিবৃতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পাঠ করে শোনানো হয়। এর আগে শনিবারই ইরানের এক আলোচক জানান, তেহরান ওই অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার স্থগিত করছে। চুক্তিটির উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, প্রায় এক মাস আগে স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ফলে ইরানও ‘আর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছে না।’
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার ভোরে জানায়, টানা সপ্তম রাতের হামলায় তারা ‘নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা’ লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।
এদিকে শনিবার ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কুয়েতে। কুয়েত কর্তৃপক্ষ এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির একটি পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র এবং একটি তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এসব হামলায় তেল স্থাপনায় কয়েকজন আহত হন এবং ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে আগুন লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একাধিক ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। টানা দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার ঘটনা।
কুয়েত ফায়ার ফোর্স জানায়, ইরানের হামলায় সৃষ্ট আরও দুটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় কয়েকজন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও একজন শ্রমিক আহত হন। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে কুয়েত এয়ারওয়েজ জানায়, রাজধানী কুয়েতে আসা-যাওয়া করা অধিকাংশ ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরাক জানিয়েছে, তারা ইরবিল শহরের আকাশে হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে। জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এদিকে বাহরাইনে সারাদিনজুড়ে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠে।



