
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পর হবু স্বামীকে ফোন করলেন তরুণ, পরে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিকে সাবেক প্রেমিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর এক তরুণ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, প্রেমিকা অন্য একজনকে বিয়ে করছেন—এমন খবর জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান ওই তরুণ।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত তরুণীর নাম বৈষ্ণবী এবং অভিযুক্ত তরুণের নাম সাহিল লাভহারে। বৈষ্ণবী অমরাবতী জেলার এবং সাহিল ইয়াভাতমাল জেলার উমরখেদের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁরা অতীতে সম্পর্কে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে নাসিকের ইন্দিরা নগর এলাকার বনসম্পদা গার্ডেনের কাছে বৈষ্ণবী ও সাহিল সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঠিক কয়েক মিনিট আগে বৈষ্ণবী তাঁর হবু স্বামীকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘সাহিল এখানে এসেছে, তুমি দ্রুত চলে এসো।’
বৈষ্ণবীর হবু স্বামী পুলিশকে জানিয়েছেন, ফোন পাওয়ার পরপরই তিনি কর্মস্থল থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। তবে তিনি ফোনকলটি কেটে দেননি। ফলে প্রায় ২২ মিনিট ধরে তিনি ফোনে বৈষ্ণবী ও সাহিলের মধ্যকার তর্কবিতর্ক শুনতে পান।
একপর্যায়ে তর্ক চরম আকার ধারণ করলে সাহিল বৈষ্ণবীকে ছুরিকাঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, বৈষ্ণবীকে হত্যার পর সাহিল তাঁর হবু স্বামীকে ফোনকল করে বলেন, ‘বৈষ্ণবী শেষ।’
এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে একটি গাছের সঙ্গে সাহিলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বৈষ্ণবীকে হত্যার পর সাহিল নিজেই নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন।
নাসিক পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈষ্ণবীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ার খবরটি সাহিল কীভাবে এবং কার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দুটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ সংশ্লিষ্টদের জবানবন্দি গ্রহণ করছে।



