
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলিতে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি : বহু পর্যটকের আটকে পড়ার আশঙ্কা
বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ এবং চামোলি জেলায় মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে বেশ কয়েকটি পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে রয়েছেন বলে আশংকা করা হচ্ছে। একাধিক আহত হয়েছেন। রাস্তায় ধস নামায় অনেকে আটকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। উত্তরাখণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় অলকানন্দা এবং মন্দাকিনী নদীর সঙ্গমস্থলে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। কেদারনাথ উপত্যকায় নদীর পানির তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি সেতু। ক্রমশ নদী এবং ছোট নালাগুলোর পানি ঢুকছে লোকালয়ে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলে জানিয়েছেন ধামী। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব এবং জেলাশাসককে।
মুখ্যমন্ত্রী ধামী জানান, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেই চমোলিতে মেঘভাঙার জেরে থারালি এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তুনরি গদেরা স্রোতে পানি বেড়ে যাওয়ায় কাদা ও ধ্বংসাবশেষ তহশিলে ঢুকে পড়ে, একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চেপদো বাজার ও কোটদ্বীপ বাজারেও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে। গাড়ি কাদার মধ্যে আটকে থাকার ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। উত্তরকাশীর হরশিল উপত্যকায় গত কয়েকদিন ধরেই চলছে ত্রাণকাজ। ধ্বংসাবশেষের কারণে যমুনা নদীতে অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হওয়ায় সেই এলাকায় গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে আবহাওয়ার সতর্কতা মাথায় রেখে রুদ্রপ্রয়াগ, বাগেশ্বর, চামোলি, হরিদ্বার ও পিথোরাগড় জেলার সব স্কুল আজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে প্রশাসন। এরও আগে চলতি মাসের শুরুতে ধরালি এলাকায় মেঘভাঙার ঘটনায় ১০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ হন। যদিও সম্প্রতি উত্তরকাশী-হরশিল সড়ক যোগাযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে গঙ্গোত্রী তীর্থযাত্রা এখনও বন্ধ রয়েছে। জেলা শাসক প্রশান্ত আর্য সর্বভারতীয় এক সংবাদসংস্থাকে জানান, “গঙ্গোত্রী যাত্রাপথে কোনও সমস্যা নেই। আমরা আশা করছি রাস্তাঘাট মেরামত শেষ হলে যমুনোত্রীর যাত্রাও পুনরায় শুরু করা যাবে।”
সূত্র : এনডিটিভি



