
ওবামা এসেছিলেন, ট্রাম্প কি আসবেন?
রূপসী বাংলা ডেস্ক:ইরানের কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এমন টানাপড়েনে গত মাসে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থায় আগামী প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাম্প ভারত সফরে আসবেন কিনা তা নিয়ে কূটনীতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
ওবামার শাসনকালে একই অবস্থার মধ্যেই ভারত সফর করেছিলেন বারাক ওবামা। ওবামার পথ ধরে ঠিক একই সমস্যা সামনে রেখে কি ভারতে আসবেন ট্রাম্প?
ভারতের আগামী প্রজাতন্ত্র দিবসে (২৬ জানুয়ারি) প্যারেডে উপস্থিত থাকার জন্য ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মোদি সরকার। আর এই আমন্ত্রণে ট্রাম্প আসতে পারেন বলে খানিকটা ইঙ্গিতও দিয়েছিল তার প্রশাসন।
তবে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্তেও ইরান থেকে তেল কেনা কমাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ভারত। আর এতে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, যেসব দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্তেও ইরানের থেকে তেল কিনবে তাদের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করবে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের বিষয়েও একই বিষয় প্রযোজ্য হবে বলে জানান ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছিলেন, ভারত শুধুমাত্র জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে। অন্য কোনও একক দেশের নিষেধাজ্ঞা তারা মানবে না।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলির খবর অনুযায়ী, ভারতকে ইরান থেকে তেল আমদানি করতে নিষেধ করে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ভারতের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি আছে। এর আওতায় তারা ইরান থেকে তেল আমদানি করে। এই চুক্তির আওতায় ইরান বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে ভারতের কাছে তেল সরবরাহ করে থাকে। তাই ট্রাম্পের কথা মেনে তেল আমদানি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এরপরই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানে ইরান ইস্যুতে বৈঠক বাতিল করা হয়েছে তা স্পষ্ট না করলেও অনিবার্য কারণের কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
৪ নভেম্বরের মধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে হবে, নয়াদিল্লিকে আগেই এই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল আমেরিকা। এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রস্তাবিত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা চুক্তিটিও ভাল চোখে দেখছে না ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বেশ কিছুদিন ধরেই ঘরে-বাইরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে মোদিরর বিদেশনীতি। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের অহেতুক অবনতি হচ্ছে, এ নিয়ে সরব হয়েছেন সমালোচক ও বিরোধীরা। ট্রাম্পকে ভারতে আনতে পারলে তা সাফল্য হিসেবে দেখানো যাবে, এই আশাতেই বুক বাঁধছে মোদি প্রশাসন।
প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে মোদী সরকার বরাবরই দেশ-বিদেশের হেভিওয়েটদের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। ক্ষমতায় আসার পর মোদীর প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হাজির ছিলেন লাল কেল্লার কুচকাওয়াজে। পরের বছর ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ। ২০১৭ সালে উপস্থিত ছিলেন আবু ধাবির যুবরাজ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহায়ান।



