
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে কার্যত সেমিতে টিম ইন্ডিয়া
রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : ব্যাট হাতে অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও মহেন্দ্র সিং ধোনির গড়ে দেওয়া প্ল্যাটফর্মে ফুল ফোটালেন ভারতীয় বোলাররা। পাকিস্তানের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের বাইশ গজে ক্যারিবিয়ানদের মাটি ধরাল বিরাটের ভারত। একপেশে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২৫ রানে হারিয়ে কার্যত সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলল মেন ইন ব্লু। খুব বড় অঘটন না ঘটলে টিম ইন্ডিয়ার নক-আউট এখন শুধু সময়ে অপেক্ষা। ভারতের ২৬৮ রানের জবাবে এদিন গেইল-ব্রাথওয়েট সমৃদ্ধ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং লাইন আপ গুটিয়ে গেল মাত্র ১৪৩ রানে।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের বাইশ গজে এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া করেননি ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কিন্তু ক্যারিবিয়ান পেসারদের প্রাথমিক আক্রমণ সামলে ক্রিজে থিতু হতেই রোহিত শর্মার বিতর্কিত কট বিহাইন্ডের সিদ্ধান্তে তাল কাটে ভারতীয় ইনিংসের। ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট পতনের পর ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেন আরেক ওপেনার কেএল রাহুল ও অধিনায়ক বিরাট। সাবলীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে ফিরতে হয় রাহুলকে। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়কের সঙ্গে ৬৯ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ৪৮ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন কর্ণাটকী ব্যাটসম্যান।
কিন্তু টানা চতুর্থ ম্যাচে অর্ধশতরান থেকে বঞ্চিত করা যায়নি অধিনায়ককে। ফের একবার ব্যাট হাতে ব্যর্থ বিজয় শংকর। রান পেলেন না কেদার যাদবও। এরই মাঝে ব্যক্তিগত ৩৭ রান পূর্ণ করতেই বিরাটের ব্যাটে নয়া মাইলস্টোনের সাক্ষী থাকে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড। কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকর ও ব্রায়ান লারাকে টপকে দ্রুততম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রান পূর্ণ করেন ‘দ্য রানমেশিন’। ৮টি চারের সাহায্যে ব্যক্তিগত ৭২ রানে অধিনায়ক ফিরে গেলে দলের রানকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন ধোনি-পান্ডিয়া জুটি। প্রাক্তন অধিনায়ক যখন ‘অ্যাঙ্কর’ ইনিংস খেলতে থাকেন তখন ক্যারিবিয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে কিছুটা মারমুখী হয়ে ওঠেন পান্ডিয়া।
৫টি চারের সাহায্যে ৩৮ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে যখন আউট হন পান্ডিয়া, দলের রান তখন ৪৮.২ ওভারে ২৫০। ষষ্ঠ উইকেটে যোগ হয় মূল্যবান ৭০ রান। পান্ডিয়া আউট হতেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ধোনি সেইসঙ্গে দলের রান পৌঁছে দেন ২৬৮-এ। তাঁর ৬১ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়।
এরপর বল হাতে ক্যারিবিয়ান শিবিরে প্রথম আঘাত দু’টি হানেন গত ম্যাচের হ্যাটট্রিকধারী মহম্মদ শামি। ১৬ রানের মধ্যে ফিরে যান গেইল ও শাই হোপ। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৫৫ রান যোগ হলেও পান্ডিয়ার বলে আমব্রিস ফিরতেই ধস নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে। পেস-স্পিনের মিশেলে সমৃদ্ধ ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে আর কোনও ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের পক্ষে সেই ধস রোখা সম্ভব হয়নি। শেষ অবধি মাত্র ৩৪.২ ওভারে ১৪৩ রানেই থমকে যায় ক্যারিবিয়ান ইনিংস। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে পাকাপাকি ভাবে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় গেইলদের। গত ম্যাচের পর বৃহস্পতিবারও বল হাতে সমান উজ্জ্বল বঙ্গ পেসার মহম্মদ শামি।
৬.২ ওভারে ১৬ রান দিয়ে তুলে নিলেন ৪ উইকেট। ৬ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট বুমরাহর ঝুলিতে। ২টি উইকেট পেলেন চাহালও। ১টি করে উইকেট ভাগ করে নিলেন পান্ডিয়া ও কুলদীপ। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে কিউয়িদের টপকে লিগ টেবিলে দু’নম্বরে বিরাটরা। ‘অপরাজিত’ তকমা ধরে রেখে রবিবাসরীয় এজবাস্টনেই টিম ইন্ডিয়ার সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় কীনা, সেদিকেই তাকিয়ে দেশের ক্রীড়া অনুরাগীরা।



