
কং-বাম মুছে বঙ্গে মোদী-দিদির কড়া টক্করের ইঙ্গিত সমীক্ষায়
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: রাজ্যে আর অস্তিত্বই থাকছে না প্রাক্তন শাসক বামেদের। টিমটিমে অবস্থা ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের। কড়া টক্কর হবে ঘাস এবং পদ্ম ফুলের।
এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সি-ভোটেরর জনমত সমীক্ষায়। প্রকাশিত হয়েছে তৃতীয় দফার জনমত সমীক্ষার ফলাফল। যা আগের থেকে অনেকটাই আলাদা।
আরও বেড়ে গেল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা। নভেম্বর মাসে ভোট হলে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ৩২টি আসন। এমনই দাবি করা হয়েছে সি ভোটারের সমীক্ষায়।
এক মাস আগে আরও একটি সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সমীখার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে ২৫টি পেতে পারে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস।
এক মাসের মধ্যে অনেকটাই বদলে গিয়েছে চিত্রটা। সাতটি আসন বেড়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসনের থেকে দু’টি আসন কমছে। তবে রাজ্যে অন্যান্য আসনের তুলনায় শীর্ষেই থাকছে দিদির দল।

অন্যদিকে গত মাসের সমীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে অনেকটাই কমে যাচ্ছে বিজেপির আসন সংখ্যা। নয়া রিপোর্ট অনুসারে বিজেপির ঝুলিতে যাতে পারে নয়টি আসন। আগের সমীক্ষায় যা ছিল ১৬। যার অর্থ এক মাসের মধ্যে প্রায় অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে বিজেপির আসন সংখ্যা।
যদিও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় সাড়ে চার গুণ বাড়তে চলেছে বিজেপির আসন। কারণ ষষ্ঠদশ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দু’টি আসন পেয়েছিল। যদিও সি ভোটারের সমীক্ষা রিপোর্ট মানতে নারাজ বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, “এই সমীক্ষার সঙ্গে আমি একমত নই।”
পশ্চিমবঙ্গে ৪২ টি লোকসভা আসন রয়েছে। যার অধিকাংশই ভারতীয় জনতা পার্টির ঝুলিতে যাবে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন সভাপতি। তাঁর কথায়, “লোকসভা ভোটে বাংলার সিংহভাগ আসন বিজেপি পাবে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “তৃণমূলের অবস্থা আরও খারাপ হতে চলেছে। লোকসভা ভোটের পড়ে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে , রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে বামেদের পকেটে কোনও আসন যাচ্ছে না। গত মাসের রিপোর্টেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। যে ধারা বজায় রয়েছে এক মাস পরেও। একদা ৩৪ বছর শাসন করা রাজ্য থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে লাল ঝাণ্ডাধারীদের। এই মূহূর্তে রাজ্যে দু’টি আসন রয়েছে বামেদের। দুই কেন্দ্রেই সাংসদ সিপিএম রয়েছেন।

তবে কংগ্রেস এই রাজ্য থেকে একটি আসন পারে বলে মনে করছে সি ভোটার। তবে ঠিক কোন আসন হাতের দখলে যাবে তা নিশ্চিত করে এখনও জানায়নি সমীক্ষা চালানো সংস্থা। মুর্শিদাবাদ বা মালদহ জেলার কোনও আসনে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জিততে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ধরনের সমীক্ষার রিপোর্ট সবসময় মেলে না। তবে একটা আভাস পাওয়া যায়। আরও বড় কথা হচ্ছে, এই সমীক্ষা চালানো হয়ছে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে। ওই সময়ে মানুষের মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে সি ভোটারের এই সমীক্ষায়। এখনও কয়েক মাস বাকি রয়েছে লোকসভা নির্বাচনের। জনমতের বদল হওয়া কিছু অস্বাভাবিক নয়।



