প্রধান খবরবাংলাদেশবিনোদন

কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন লাইফ সাপোর্টে

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: বিশিষ্ট অভিনয় শিল্পী, লেখক এবং ব্যতিক্রমধর্মী  ও কিংবদন্তী চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন। গতকাল রোববার সকালে নিজ বাসায় তিনি ব্রেন স্ট্রোক করলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। ইমপালস হাসপাতালে ডা. শহীদুল্লাহ সবুজের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমজাদ হোসেন। এরপর তাঁকে দ্রুত তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তাঁর স্ট্রোকের বিষয়টি জানা যায়। আমজাদ হোসেনের পুত্র সোহেল আরমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আপাতত তাঁকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ।

চিকিৎসকরা আরও জানান, আমজাদ হোসেনের বড় ধরনের স্ট্রোক হয়েছে। মাথার মধ্যে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। হাসপাতালে ভর্তির পরপরই পরপরই সিটিস্ক্যান করে সমস্যাটি নির্ণয় করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। বার্ধ্যক্যজনিত রোগও আছে। তবে এখনই তারা কিছু বলতে পারছেন না। যাতে কোনও ধরনের সমস্যা না হয় এজন্য লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

মাস ছয়েক আগেও থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে সুকুমভিত হাসপাতালে আমজাদ হোসেনের অপারেশন করা হয়েছিল। এছাড়া আগে থেকেই তাঁর বার্ধক্যজনিত কিছু জটিলতা ছিল। হার্টেও সমস্যা রয়েছে। সমস্যা আছে কিডিনিতেও।

আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ অগাস্ট জামালপুরে জন্মেছেন । ছোটবেলা থেকেই তিনি সাহিত্যানুরাগী ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় আসার পর সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। অভিনয় জীবন শুরু করেন  মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ চলচ্চিত্রর মধ্য দিয়ে। মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ তাঁর অভিনয় জীবনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। আমজাদ হোসেন রচিত নাটক ‘ধারাপাত’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন সালাহউদ্দিন। এতে আমজাদ হোসেন নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত হলেও আমজাদ হোসেন একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকার, সংলাপকার, গীতিকার, নাট্যকার, গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক।

লাইফ সাপোর্টে আমজাদ হোসেন

শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৩ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার এ ভূষিত করে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি ১৯৭৬ সালে ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত হন। ১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র (প্রযোজক) শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা এবং শ্রেষ্ঠ গীতিকার নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে ‘সুন্দরী’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার। ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে পুরস্কৃত হন। ২০০৪ সালে আমজাদ হোসেনের গল্প নিয়ে অভিনয় শিল্পী তৌকির আহমেদ সংলাপ, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension