বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার রায়ের পর খালেদা জিয়ার চাচার মিষ্টি বিতরণ

প্রতিনিধি ফেনী: বিএনপি নেত্রী ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে “জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট” দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজা দেয় আদালত। এর প্রতিক্রিয়ায় সারাদেশে তোলপাড় হলেও শুধু নিরব ভুমিকা পালন করছে নিজ জেলা ফেনীর নেতাকর্মীরা।

নেতৃত্বে কোন্দল,অযোগ্যদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন,ক্ষমতাসীন দলের সাথে গোপন আঁতাত এবং তৃণমূলকে অবমূল্যায়ন করার কারণে খালেদা জিয়ার নিজ জেলা ফেনীতে কোন আন্দোলন নেই বলে মনে করছেন ফেনীর অভিজ্ঞমহল ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

এদিকে রায় ঘোষণার পর পর খালেদা জিয়ার সাজা হওয়ায় আনন্দে ফেটে পড়ে আ‘লীগ নেতাকর্মীরা। ৭ তারিখ সন্ধ্যা থেকে জেলা সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফেনী শহর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে রাতভর পাহারা দেয়। সকাল থেকে মিছিল-শ্লোগানে খালেদা জিয়ার শাস্তি দাবী করে আ‘লীগ।

রায় ঘোষণার সাথে সাথে ফেনী শহর ও জেলার সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়। এ সময় মিষ্টি বিতরণে অংশ নেন ফেনী জেলা আ‘লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারী।

ফেনীতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে খালেদা জিয়ার চাচার মিষ্টি বিতরণের খবরটি। বিএনপি নেত্রীর পৈত্রিক বাড়ি ফুলগাজির শ্রীপুরে। রায় ঘোষণার পর তার চাচা একেএম মহিউদ্দীন শামু চেয়ারম্যান ফুলগাজি বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেন। এসময় আ‘লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

এর পূর্বে শামু চেয়ারম্যান খালেদা জিয়ার বাড়িতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কাঙালী ভোজের আয়োজন করেছিলেন। গত ২০১৬ সালের ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়ার বাড়িতে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আ‘লীগে যোগ দেন শামু চেয়ারম্যান।

তিনি আ‘লীগে যোগ দেবার পূর্বে জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। মূলত খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর উন্নয়নে তেমন কোন ভূমিকা রাখেননি। তাই ফুলগাজিতে জনমনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে ফেনী জেলা বিএনপি খালেদা জিয়ার গ্রেফতারে যেন নিরবতা পালন করছে। ৩০ জানুয়ারি থেকে পুলিশি অভিযান শুরু হওয়ায় ফেনীর নেতাকর্মীরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপরও ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রশাসন প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে পূর্ব থেকে পালিয়ে থাকায় ফেনী বিএনপির কোন নেতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নেতাকর্মীদের সাথে আলাপকালে তারা জানান,ফেনী জেলা বিএনপি অভিভাবকশূন্য। নেতৃত্বের দুর্বলতা আর কোন্দলের কারণে নেতাকর্মীদের মাঠে পাওয়া যায় না বলে তৃণমূলের অভিযোগ। আবার জেলা নেতারা অনেকে ক্ষমতাসীন দলের সাথে গোাপন আঁতাতের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে আন্দোলন থেকে দুরে সরে আছে।

ফেনী জেলা বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আইনজীবী আর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দীন মিস্টার চাল ব্যবসায়ী। নেতারা প্রফেশনাল রাজনীতিবিদ না হবার কারণে ফেনীতে আন্দোলন নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল।

এদিকে ফেনী জেলা বিএনিপ ও সহযোগি সংগঠনের কয়েক নেতা সাংবাদিকদের ফোন করে জানান,তারা মিছিল করার প্রস্তুতি নিলেও পুলিশি বাধায় করতে পারেননি। আবার মিছিল নিয়ে বের হবার প্রাক্কালে পুলিশের বাধা আর নেতাকর্মীর গ্রেফতারের কথাও বলেন কয়েকজন নেতা। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোন সত্যতা ফেনীর জনগণ প্রত্যক্ষ করেননি।

ফেনী জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু তাহের জানান,জুমার নামাজের পর কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসুচি নিয়ে প্রধান সড়কে আসার পূর্বেই পুলিশ-বিজিবি হামলা চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। শনিবার প্রতিবাদ সভার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension