
ছত্তিশগড়ে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে প্রথম আদিবাসী
ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পুরনো ও পরীক্ষিত কোনো মুখ নয়, নতুন মুখেই আস্থা রাখল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক মন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইকে বেছে নিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজেপি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকলেও মূলত বয়সের কারণে এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের অভাবে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে ছত্তিশগড়ের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংকে।
বিষ্ণুর নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর স্পষ্ট যে আদিবাসী অধ্যুষিত এই রাজ্যে প্রথমবারের জন্য কোনো আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেন।
এ ছাড়া নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, ছত্তিশগড়ের তফসিলি জাতি ও তফসিলি আদিবাসীদের অধিকাংশ ভোট এবার বিজেপির অনুকূলে গেছে। অথচ ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটে এই ভোটই গিয়েছিল কংগ্রেসের ঝুলিতে। মনে করা হচ্ছে, লোকসভা ভোটের আগে আদিবাসী ভোট ব্যাংক অক্ষুণ্ণ রাখতেই বিষ্ণুকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিল পদ্মশিবির।
রবিবার রায়পুরে দলের নবনির্বাচিত ৫৪ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে বসেন পর্যবেক্ষকরা। সেই বৈঠকেই বিষ্ণুর নামে সম্মতি জানান অধিকাংশ বিধায়ক।
গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিষ্ণু ছত্তিশগড়ের রায়গড় লোকসভা কেন্দ্রের চারবারের সংসদ সদস্য। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক টানা ২০ বছর এমপি ছিলেন তিনি।
২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মোদির প্রথম মন্ত্রিসভায় ইস্পাত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান তিনি। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ছিলেন ছত্তিশগড়ের বিজেপি সভাপতি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কুঁকুড়ি বিধানসভা আসন থেকে জয়ী হন তিনি। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দুই দফায় বিধায়ক হিসেবেও নির্বাচিত হন বিষ্ণু।
আনন্দবাজার আরো বলেছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ‘সুনজরে’ থাকা বিষ্ণু রাজ্য রাজনীতিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
বিষ্ণুর কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে বিষ্ণুকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিষ্ণুর নাম চূড়ান্ত হতেই তাঁকে এক্সে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বঘেল।



