
জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক সম্মেলন শুরু
রূপসী বাংলা ঢাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈশ্বিক সম্মেলন শুরু হয়েছে । তবে এ সম্মেলনে অংশ নেয় নি জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতে ইয়ালো ভেস্ট কর্মীদের বিক্ষোভে উদ্বিগ্ন ফ্রান্স। গতকাল সোমবার ২০০ টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের শীর্ষ সম্মেলনটি পোল্যান্ডের কাতোভিতসা শহরে শুরু হয়।
এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতার ক্রমবর্ধান প্রভাবে মেরু অঞ্চলে বরফ গলার হার বাড়ায় সমুদ্রেপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চল হ্রাসে বৃদ্ধি পাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খরায় সৃষ্ট আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। বিশ্বজুড়ে পরিচালিত এক জলবায়ু পরিস্থিতি জরিপে দক্ষিণ এশিয়ার ঝুঁকিগ্রস্ত মালদ্বীপ, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার হন্ডুরাস, নাইজেরিয়ার মত দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রতিনিধিরা এই সিওপি ২৪ শীর্ষ সম্মেলনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবনা সমুহের পর্যালোচনা করতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রণকারী দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে রাখতে সম্মত হয়। বিশ্বের প্রায় ২শ’ দেশের প্রতিনিধিরা দুসপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পারস্পারিক সমঝোতা ও কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের গতির চেয়ে মানুষের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অনেক ধীরগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কারণ বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ইস্যুতে বিরোধ রয়েছে। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বকে প্রত্যাশিত জায়গায় রাখতে হলে কার্বন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমাতে হবে।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের লক্ষে এরই মধ্যে ২০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে বিশ্বব্যাংক । প্যারিস চুক্তির আওতায় উন্নয়নশীল দেশগুলো যেন তাদের অর্থনীতিকে পরিবেশবান্ধব করতে পারে সেজন্য ধনীদেশগুলোকে তহবিল প্রদানের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মত বিশ্ব অর্থনীতির নেতৃত্বে থাকা শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।



