
জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) বাস্তবায়নসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা করবে জাতিসংঘ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে পৃথক দুটি সভায় এই আশ্বাসের কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক জিন লুইস এবং এডিবির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডিমন গিন্টিং।
বৈঠকে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এজন্য জাতিসংঘ ও এডিবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। এছাড়া কপ-২৭ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশগুলোর ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রতির কথাও মনে করিয়ে দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অর্থায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফাইন্যান্সের হিসাব মতে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ৮ দশমিক ৮ থেকে ৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ধরিত্রীকে বাঁচাতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের হার ৪৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে হবে।
এসময় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পণা প্রণয়ন করলে তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক জিন লুইস। এছাড়া জলবায়ু উদ্বাস্তুদের সহায়তার বিষয়েও তিনি জাতিসংঘের বিশেষ আগ্রহের কথা জানান।
এডিবির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডিমন গিন্টিং বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বে রোল মডেল বলে প্রশংসা করেন। বলেন, বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি বিশ্বের অন্যান্য দেশ অনুসরণ করে। এডিবি বাংলাদেশকে বিভিন্ন প্রকল্পে সহায়তা করছে। সরকার জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো প্রকল্প প্রস্তাব করলে এডিবি তাতে অর্থায়ন করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।


