প্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

জলবায়ু সংকট: বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান বাইডেনের

জলবায়ু সংকট এ গ্রহের বহু প্রাণের জন্য হুমকি উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুক্রবার (১১ নভেম্বর) মিসরে আয়োজিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন-কপ২৭-এ দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফ্রিকাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু সংকটে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তার জন্য নতুন মার্কিন উদ্যোগ ও তহবিল ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে, সবাইকে কাজ করতে হবে। এটি বিশ্বনেতৃত্বের একটি দায়িত্ব ও কর্তব্য। যে দেশগুলো সহায়তা করার অবস্থানে রয়েছে, তাদের উচিত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সমর্থন করা; যাতে তারা জলবায়ুসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, তাদের শক্তির রূপান্তর সহজতর করে সমৃদ্ধির পথ তৈরি করতে পারে; যা আমাদের জলবায়ু প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।’

বাইডেন বলেন, ‘যদি উন্নত দেশগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কয়লা প্রযুক্তিতে অর্থায়ন করতে পারে, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় সবুজ শক্তিতে অর্থায়ন করতে না পারার আমাদের কোনো কারণ নেই।’

এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে সহায়তার জন্য ওয়াশিংটন অভ্যন্তরীণভাবে এবং সারা বিশ্বে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তার রূপরেখা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগের জন্য তহবিল ও গ্রহ-উষ্ণায়নে দায়ী মিথেন নির্গমন রোধের জন্য চাপ প্রয়োগ।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বাইডেন আফ্রিকাজুড়ে অভিযোজন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার ‘ডাউন পেমেন্ট’ ঘোষণা করেছেন।

বাইডেন তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, তার দেশ ২০০৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে কমানোর চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করতে চলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলো। অথচ এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি সবসময় আলোচনা হয়ে থাকে; যাতে এসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।

চলমান কপ-২৭-এর আলোচনায় ধনী দেশগুলোর ওপর এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে সবুজ অর্থনীতি চালুর বিষয়ে আলোচনা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সবুজ অর্থনীতি চালু করতে ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বকেই এ পরিবর্তনের পথে হাঁটতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সংকট মানব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে এটা অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি। তাই এ হুমকি মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে সব দেশকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension