যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের ইতি টানতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। মঙ্গলবারের (৩ নভেম্বর) এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

আগামী জানুয়ারির শুরুতে যে কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হবে, তা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কংগ্রেসের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন হবে। ওই সময় কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের।

ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের নীতিগুলো আরও কঠোরভাবে পর্যালোচনা করতে পারবেন এবং তাদের বিরোধিতার মুখে পড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও প্রেসিডেন্টের হাতে অনেক কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজনৈতিক ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আলোকপাত করেছে আলজাজিরা।

শুল্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের রায় এড়িয়ে শুল্ক কার্যকর রাখার বিকল্প পথ খুঁজে নেয়।

সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে ওই শুল্ক বাতিলের কয়েক দিন পরই ট্রাম্প আবারও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। ভিন্ন একটি আইনের ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশে দ্রুত সই করে শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন তিনি। তবে এসব শুল্কের মেয়াদ ১৫০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তা বাড়ানো সম্ভব নয়।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। কারণ, শুল্কের বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের ওপর পড়ে। তারা সেই খরচ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কাটছেন’।

ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস রপ্তানিকারকদের সাময়িক স্বস্তি দিতে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়ের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং হোয়াইট হাউসে নতুন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জেমস বয়েজ বলেন, শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এখনো আইনি লড়াই চলছে। সরকার ইতোমধ্যে যে শুল্ক আদায় করেছে, তা ফেরত দিতে হবে কি না এবং কতটা ফেরত দিতে হবে, তা নিয়েও বিরোধ রয়েছে।

তবে ক্ষমতার পালাবদল হলেও একটি বিষয়ে কংগ্রেসের পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা হলো, চীনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আরও কঠোরভাবে সীমিত করা।

এ ক্ষেত্রে রয়েছে ‘রিমোট অ্যাকসেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট’। এই আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিতে দূরবর্তী প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর আওতায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ অনুমোদিত স্থানে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে এসব চিপের অপব্যবহার ঠেকানো। সূত্র: আল জাজিরা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension