
আহম্মদ হোসেন বাবু
একা শুয়ে আছে আমার মা!
বাবা শুয়ে আছে একা, বোন শুয়ে আছে একা!
আমি শুইনি এখনো, জেগেই আছি- তবে একা।
নিঃসঙ্গ থাকার অভ্যেসটা হলেই, একেবারে শুয়ে যাব আমি।
কিন্তু কার পাশে শোবো?
মার পাশে শোবো, নাকি বাবা? এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
শোবার জায়গাটা আর একটু ভালো হলে ভালো হতো।
মেহগনি গাছটা ততদিনে আরও একটু বড় হবে-
দ্বিপ্রহরে ছায়া পড়বে মুখে।
মাথার উপরে আরো কিছু ফুল গাছ হলে ভালো হতো।
বেলি আর রজনীগন্ধার প্রয়োজন খুব;
মার জন্যে আরো ক’টা গাঁদা ফুল হলে ভালো হয়।
এখন যেভাবে পাখিগুলো ডাকে, তখনো নিশ্চয়ই ডাকবে;
এখন ওদের ভাষা বুঝি না, তখন হয়তো বুঝবো।
দুপুরে সোনালি চিল ডানা মেলে ভাসে নীলাকাশে।
তখনো নিশ্চয়ই ভাসবে ওরা। ভাসুক, আসুক।
তখন কী আমার জীবনানন্দ মনে পড়বে?
এখন সন্ধ্যায় শিয়াল মামারা আসে।
তখনো হয়তো আসতে চাইবে, আসলে ক্ষতি নেই-
কিন্তু মাটি খুঁড়ে বাসা বাঁধলে সমস্যা ভীষণ।
আমার মা আবার শৃগালকে খুব ভয় পায়,
আমি সাথে থাকলে, ভয়টা কমবে।
জমজম কূপের পানি দিয়ে ধোয়া, বাবা-মার কাফন কাপড়।
আমারটাও মনে হয় ধোয়া প্রয়োজন।
তা না হলে, বাবা-মা ভীষণ রাগ করতে পারে।
এখন সুযোগ পেলেই মা-বাবার নিকটে যাই-
একা-একা কথা বলি, জলে চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে।
আচ্ছা, চোখ ভর্তি জল নিয়ে, তখন কী কেউ আসবে?
আগরবাতি, গোলাপজল হাতে নিয়ে-
বলো, আসবে কী তখন কেউ?
আসবে কী?



