
তারা দুর্নীতিবাজদের সাথে জোট বেঁধেছে: প্রধানমন্ত্রী
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরী দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দুর্নীতিবাজদের সাথে জোট বেঁধেছে।
রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আয়োজনে নিউইয়র্কে এক নাগরিক সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন তিনি। তথ্য-ইউএনবি’র।

সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মঞ্চে আরো উপবিষ্ট ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আকতার হোসেন, মাহাবুবুর রহমান, ফজলুর রহমান, সৈয়দ বসারত আলী. আবুল কাশেম, সামসুদ্দিন আজাদ ও লুৎফুল করিম, সিনিয়ার যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী এবং যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীসহ নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, বস্টন, ওয়াশিংটন মেট্র, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, লসএঞ্জেলেস, শিকাগোসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগদেন। সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। নেতা-কর্মীরা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত রাখেন পুরো হল। বিভিন্ন শ্লোগানের পাশাপাশি ’নো মোর সিদ্দিক’ শ্লোগানটি উচ্চারিত হয় বার বার।

প্রধানমন্ত্রী বিদ্রুপ করে বলেন, এই সমস্ত দুর্নীতিবাজকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা লড়াই করবেন! কামাল হোসেন লড়াই করবেন? বি চৌধুরী লড়াই করবেন? মান্না লড়াই করবে?
শেখ হাসিনা বলেন, এতিমদের টাকা আত্মসাতের কারণে খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে রয়েছে। আর তার বড় ছেলে তারেক জিয়াও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উদেষ্টা মইনুল হোসেন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কাকরাইলের বাড়ির জমি দখল করে, সে জায়গা নিয়ে মামলা আছে। সেই মঈনুল হোসেনও তাদের সাথে যোগ দিয়েছে।
পাশাপাশি বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের সহানুভূতিতে অবৈধভাবে বাড়ি দখলের পর দোষী সাব্যস্ত হয়ে গুলশানের বাড়ি হারিয়েছেন।

ড. মুহাম্মাদ ইউনুসের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরও তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ ছাড়েন না। দরিদ্রদের উচ্চসুদে ঋণ দিয়ে তিনি এখন বড়লোক হয়েছেন।
হিলারি ক্লিন্টনের সহযোগিতায় ড. ইউনুস পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমাকে গ্রেপ্তারের পর তিনি (ইউনূস) ইয়াজউদ্দীন নেতৃত্বাধীন সরকারকে ডাবল এ প্লাস মার্ক দিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এরা সব এক জায়গায়। কেউ সুদখোর, কেউ ঘুষখোর, কেউ মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত, কেউ খুনী। এভাবে সব আজকে এক জায়গায়।

যুক্তফ্রন্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা কেন সরকারকে উৎখাত করবে? কারণটা কী? দেশের জন্য আমরা কি করি নাই? এমন কোনো খাত নেই, যেখানে উন্নয়ন করি নাই। আরে এটা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই সম্ভব।
১০ দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস ছাড়াও একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার।
জাতিসংঘে আসা বিশ্ব নেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন।
জাতিসংঘে এবারের সফরে ৫০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যবসায়ীদের ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও তার সফরসঙ্গী হয়েছে।
Posted by Ruposhi Bangla রূপসী বাংলা on Sunday, September 23, 2018
Posted by Ruposhi Bangla রূপসী বাংলা on Sunday, September 23, 2018
Posted by Ruposhi Bangla রূপসী বাংলা on Sunday, September 23, 2018



