
তৃণমূল থেকে আ’লীগকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যয়
রূপসী বাংলা নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে সারা দেশে দলীয় কমিটির সিদ্ধান্ত ,সারা দেশে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। তিনি বলেন, আমরা আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি করেছি, এই কমিটিগুলোর দায়িত্ব থাকবে তৃণমূলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি সভাস্থলে উপস্থিত হন। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এই উদযাপনের লক্ষ্য নিয়েই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছি। আমরা সরকারিভাবেও কমিটি করেছি, ব্যবস্থা নিয়েছি। পার্টির পক্ষেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা একটা কমিটিও করেছি। সেই কমিটির মাধ্যমে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা উদযাপন করব। এই সময়টাকে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজ এখানে আলাপ-আলোচনা করব।
আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সে সঙ্গে আমাদের আরেকটি কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা প্রেসিডিয়াম মিটিং করেছি। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কার্যকরী সংসদের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আমরা আটটি বিভাগে আটটি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো একবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো এবং গড়ে তোলা। কোথায় কমিটি আছে না আছে সেগুলো দেখা। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস অর্জন করেছি এবং জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচন, যেটা হয়ে গেল; যদি নির্বাচনের দিকে তাকান দেখবেন সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। যেটা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এবার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানায়। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্র্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র; সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার সবাই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে। তাদের সেবা করার জন্য মানুষ ভোট দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান যেহেতু মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো। নির্বাচনকে তারা মনে করে ব্যবসা। টিকেট বেচে তারা কিছু পয়সা কামাই করে নিয়েছে; কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে যখন সার্ভে করা হয়েছিল, সেই সার্ভেতে তখন থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। তারা (বিএনপি) নির্বাচন না, নির্বাচন নিয়ে একটা বাণিজ্য করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছে, যার জন্য তাদের এই হাল। বিএনপি-জামায়াত আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাই হোক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এগুলোই ছিল তাদের কাজ। আজ দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে।
বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এবারের নববর্ষ সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপন করেছে। সব শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে এই উৎসব করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি। বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশটা জাতির পিতার নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে যখন যাত্রা শুরু করে তখনই ১৫ আগস্টের নৃশংস ঘটনা ঘটে। নৃশংসভাবে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ১৫ আগস্ট-পরবর্তী দু’দফায় ২৯ বছরের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এরপর জাতির জীবনে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার। এ সময় মানুষের কোনো অগ্রগতি হয়নি। কেবল আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করে। ’৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ, এরপর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং এ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত, বাংলাদেশ আজ দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার পথে। আমরা প্রায় ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ছোঁয়া আজ গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আজ গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হচ্ছে, মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে। এটাই জাতির জনকের স্বপ্ন ছিল, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যৌথ সভায় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ ও এইচটি ইমামসহ দলটির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে দলীয় কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়। কয়েকজন নেতা সাংগঠনিক সফরের প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। এ সময় সংসদ সদস্যরা এলাকায় থাকতে পারবে না। তাই পরবর্তী সময়ে দিন-তারিখ ঠিক করে আট বিভাগের সাংগঠনিক টিম সফর করবে। আপাতত কোথায় কোথায় সাংগঠনিক দুরবস্থা আছে সে বিষয়ে খোঁজ নিতে দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।



