
নেতানিয়াহুকে গাজা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন কমলা হ্যারিস
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস। বৃহস্পতিবার ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নেতানিয়াহু। সাক্ষাতের সময় কমালা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। অনলাইন বিবিসির খবরে তাদের আলোচনাকে গঠনমূলক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনায় অনেকটা স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন কমালা। তিনি বলেছেন যে তিনি গাজায় হতাহতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। হোয়াইট হাউসে তাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমালা বলেছেন, এখনই গাজায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় এসেছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপকালে গাজা ইস্যুতেই বেশি কথা বলেছেন কমালা হ্যারিস। সেখানে তিনি গাজার দুর্দশার বিষয়ে ‘চুপ’ না থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকবার গাজায় হতাহতের সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ফিলিস্তিনিদেও দুর্ভোগের দিকেও নজর রয়েছে। নেতানিয়াহু এসময় ইসরাইলের আত্মরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করলে কমালা তা স্বীকার করে গাজায় বহু নিরীহ বেসামরিক লোকজনের নিহতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের কমালা বলেন, ‘গত নয় মাস গাজায় যা ঘটেছে তা বিধ্বংসী।
গাজায় শিশু নিহত হচ্ছে, ক্ষুধার্ত মানুষেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে আবার কখনও কখনও দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থবারের মতো বাস্তুচ্যুত হচ্ছে সেখানের মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ট্র্যাজেডিগুলোর দিকে তাকাতে পারছি না। এমন নিদারুণ কষ্টের বিষয়ে অসাড় হতে পারি না। এ বিষয়ে আমরা চুপ থাকব না।’ এছাড়া কমালা নেতানিয়াহুকে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।
কমালা হ্যারিস বলেছেন, ‘এমনভাবে এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে যেখানে ইসরাইল নিরাপদে থাকবে এবং সকল জিম্মি মুক্তি পাবে। পাশাপাশি গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ শেষ হবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার অধিকার ফিরে পাবেন।’ ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতিও নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন কমালা। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া হামাসের হাতে যেসকল মার্কিন নাগরিক বন্দি রয়েছেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট।



