
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা। নৌকায় ভোট না দিলে কেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গৌরীঘোনা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক অলোক চক্রবর্তীর ছবিসংবলিত দুই মিনিটের একটি ভিডিও এবং পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দীনের এক মিনিট ১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ন্যাসগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচনী পথসভা হয়। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এই পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমান। এছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অলোক চক্রবর্ত্তীকে বক্তব্যে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপির ভোট দিতে আসার দরকার নেই। তার পরও যদি কেউ আসে, তাহলে সেটা পরে বোঝা যাবে। যারা আওয়ামী লীগে বিশ্বাস করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, যারা নৌকায় বিশ্বাস করে, যারা শাহীন চাকলাদারকে নেতা হিসেবে মানে, আর যারা এই ইউনিয়নে হাবিব ভাইকে (ইউপি চেয়ারম্যান) নেতা হিসেবে মানে, তারাই শুধু ভোটের মাঠে যাবে। আমি যেতে নিষেধ করব না। যারা শাহীন চাকলাদারবিরোধী, তাদের ভোটের মাঠে যাওয়ার দরকার নেই। যারা নৌকার পক্ষে ভোট দেবেন, তারাই ভোটের মাঠে যাবেন। তা না হলে যাওয়ার দরকার নেই। কথা কিন্তু ক্লিয়ার।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে অলোক আরও বলেন, ‘অনেকেই আমাদের বক্তব্য ভিডিও করছেন। কেউ ভিডিও করবেন না। আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। হাবিব ভাইয়ের বিরুদ্ধে না, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। দেশে-বিদেশে এর সঙ্গে এলাকাভিত্তিক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমাদের বক্তব্য রেকর্ড করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে পারে। ওসব করে কিচ্ছু হবে না। এই অঞ্চলের নেতাকর্মীদের বলি, স্বতন্ত্রদের আশ্রয় দিচ্ছেন, পক্ষ নিচ্ছেন। তাদের নাম বলব না। এই গৌরীঘোনা ইউনিয়নে আমরা আওয়ামী লীগ করি। ফলে ওই সমস্ত দালালকে সুযোগ দেব না। ওদের (স্বতন্ত্র) পুলকে যারা ভোটের মাঠে আসবে, তাদের কঁচা (স্থানীয় গাছ) দিয়ে কী করব, তা কিন্তু বলতে পারব না।’
অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পাঁজিয়া বাজারের একটি দোকানে নৌকা প্রতীকের পোস্টার বিতরণের সময় ধারণ করা ভিডিওতে ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘ভোট যারা নৌকায় দেবে তাগে কবেন শুধু সেন্টারে যাতি, যারা নৌকায় দেবে না তাগে যার (যাওয়ার) দরকার নেই। খালি গ্যাঞ্জাম-ফ্যাসাদ করে অপমান হওয়ার দরকার আছে জামাই? ভালো থাকেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা অলোক চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘অডিওটি আমি শুনেছি। এসব এডিট করা। কেশবপুরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তাতে কাউকে নিষেধ বা জোর করা লাগবে না। সাধারণ ভোটাররা এমনিতেই ভোট দিতে আসবে।’
তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তুহিন হোসেন বলেন, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কেশবপুরে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, যশোর-৬ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার ছাড়াও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আজিজুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির জি এম হাসান।



