
নৌকা কি কারো সম্পত্তি, প্রতীক থাকতে পারবে না—প্রশ্ন আব্দুন নূর তুষারের
জনপ্রিয় উপস্থাপক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ইনফ্লুয়েন্সার আব্দুন নূর তুষার বলেছেন, ‘নৌকা প্রতীকটি নিয়ে এমন ভাবা হচ্ছে যেন এটি কারো একক মালিকানাধীন। এটি একটি ভুল ধারণা। এনসিপি দাবি করছে যে, প্রতীকের তালিকায় নৌকা থাকতে পারবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো— নৌকা কি কোনো দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি?’
সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনে টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুন নূর তুষার বলেন, ‘নৌকা যাকে দেওয়া হয়েছিল তারা ব্যবহার করত। আওয়ামী লীগ না থাকলে এটা কেউ চাইবে। কেউ তো নৌকা চাইতে পারে। এখন কি ঘটনাটা এইরকম? নৌকা শত্রু।
মানে আমরা তাহলে কালকে থেকে নদীতে নৌকা চলা বন্ধ করে দেই, ধান কেটে গম লাগাইয়া দেই। ব্যাপারটা এরকম যুক্তি হয়ে গেল না তো। এইটা তো ভুল— যে দল নিজেকে তৈরি করতে পারে নাই সে দল তার মার্কা না দিলে রাজনীতি হবে না, ইলেকশন হবে না ধমক দিচ্ছে। তাহলে ধমক দেওয়ার সময় শক্তি থাকলে সমালোচনা নেওয়ার সময় কেন বলবে যে তারা দুর্বল।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই। একটি দল অন্য দলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে–সেটাই স্বাভাবিক। তবে সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা যাবে তখনই যখন সেখানে মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হবে। প্রকৃত সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র বলা ঠিক নয়। বরং, কোনো ব্যক্তি বা দল যদি সমালোচনায় কোণঠাসা হয়ে পড়ে, তাহলে তাদের নিজস্ব দুর্বলতাই সেখানে দায়ী।
সত্যিকারের সমালোচনা হতে হবে বক্তব্য বা কাজের ভিত্তিতে–ব্যক্তির পরিচিতি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
তিনি রাজনীতিতে ‘ফ্রেমিং’ ও ‘ট্যাগিং’-এর প্রবণতা নিয়েও সমালোচনা করেন। বিএনপি যেমন কাউকে ‘জামায়াত’ বলে ট্যাগ করে, আওয়ামী লীগ কাউকে ‘ফ্যাসিস্ট এনেবলার’ বলে, তেমনি এনসিপিও কাউকে ‘সফট লীগ’ বলে চিহ্নিত করে। এসবই ফ্রেমিংয়ের উদাহরণ।
তিনি আরো বলেন, ‘একটি দল যদি নিজেকে গঠন করতে না পারে এবং প্রতীক না পেলে নির্বাচন হবে না—এমন দৃষ্টিভঙ্গি দুর্বলতার পরিচায়ক। এবং যদি কারও সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বলা হয় ‘আমরা দুর্বল, আমাদের সমালোচনা করো না’— তবে প্রশ্ন উঠে, সমালোচনা কেন সহ্য হচ্ছে না?



