
প্রথম মনিপুরি হিসেবে জাতীয় দলে জায়গা পেলেন রেক্স
রূপসী বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক : সময়টা ২০১৮ ডিসেম্বর। অনন্তপুরে কোচবিহার ট্রফির একটি ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্সে প্রথম লাইমলাইটে আসেন তিনি। অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে একটি ইনিংসে ১০টি উইকেটই নিজের নামে করে ইতিহাস গড়েন রেক্স সিং। গত মরশুমে রঞ্জি ট্রফিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া রেক্স অচিরেই নাম খোদাই করে নেন অনিল কুম্বলে ও জিম লেকারের সঙ্গে একাসনে। এবার প্রথম মনিপুরি ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চারদিনের ম্যাচে ভারতের অনুর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পেলেন মনিপুরের বাঁ-হাতি পেসার রেক্স রাজকুমার সিং। বিহারের সাবির খান কিংবা উত্তরাখন্ডের অবিনাশ থাপাও সুযোগ পেয়েছেন এই দলে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল দু’জন ক্রিকেটারের ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার নজির রয়েছে। ১৯৯৯ দিল্লিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কুম্বলের এই কৃতিত্ব গড়ার আগে ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই নজির গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের জিম লেকার।
ক্রিকেটের নীচু স্তরে হলেও ইম্ফলের ট্রাক ড্রাইভারের ছেলের এই বিরল কৃতিত্ব নজর কাড়ে নির্বাচকদের। তারই ফল হিসেবে জাতীয় দলে রেক্স রাজকুমারের সুযোগ পাওয়া। এর আগে বিহারের বিরুদ্ধে বিসিসিআই পরিচালিত একটি টুর্নামেন্টে ৫ উইকেট ঝুলিতে নিয়েছিলেন এই তরুণ ফাস্ট বোলার। রেক্সের মতে, ‘সেই ম্যাচে প্রথম মনে হয়েছিল বলা হাতে আমার সুইং ব্যাটসম্যানের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সেই থেকে আমি ইনসুইংয়ে ফোকাস করতে শুরু করি।’
যাইহোক তাইকোন্ডো এবং ফুটবল ছিল রেক্সের প্রথম পছন্দ। এরপর টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট জীবণ শুরু করা এই ক্রিকেটারের জীবণ বদলে যায় কোচ রোহেন্দ্র সিংয়ের ছোঁয়ায়। টেনিস বল ক্রিকেট থেকে চামড়ার বলে ক্রিকেটে রেক্সকে নিয়ে এসেছিলেন তিনিই। আর জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া রেক্স জানান, ‘সুইংই আমার আসল শক্তি। নেটে নিয়মিত অনুশীলন করে সুইং অস্ত্রে আরও ধারালো হওয়ার চেষ্টা করছি।’
অরুণাচলের বিরুদ্ধে এক ইনিংসে ১০ উইকেটই যে এখনও অবধি ক্রিকেটজীবণের সেরা মুহূর্ত, জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি হাজার আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবসময় পাশে থেকেছেন তাঁর ট্রাকচালক বাবা। অবশেষে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে বাবাকে গর্বিত করতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই তরুণ ক্রিকেটার।



