আন্তর্জাতিকপ্রধান খবরযুক্তরাষ্ট্র

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি মুখোমুখি

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ  জাতিসংঘের ৭৩ তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে দশ দিনের  সরকারি সফরের তৃতীয় দিনে কিছুক্ষণ আগেই নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ জার্সির নিউইয়র্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে লন্ডনে দুই দিনের যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সকালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের পথে লন্ডন ত্যাগ করেন।

 

বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাবেন।

বিমানবন্দরে অর্ভ্যথনা পর্ব শেষে একটি মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে নিউ ইয়র্কের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি উভয় দলের  দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভা-সমাবেশ হচ্ছে।

ইউএনবি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জ্যাকসন হাইটস ছাড়াও ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসে একাধিক সমাবেশ হয়েছে।

 

এই মুহূর্তে বিমানবন্দরের বাহিরে  প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামি-লীগ ছাড়াও ইটালি, কানাডা, মদ্ধ-প্রাচ্য থেকে আসা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেমন প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে, ঠিক তেমনি একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিও প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের প্রতিবাদ জানাতে। বিএনপি বলছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক, প্রাইভেট ব্যাংকসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে অবাধে লুটপাট হচ্ছে। শেয়ার মার্কেট থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা সরানোর তদন্ত রিপোর্ট আজ অবধি প্রকাশ করা হয়নি, বিচার তো অনেক দূরের কথা। ডেসটিনিসহ অনেকগুলো প্রতারক-প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের নেতারা সাধারণ মানুষের পুঁজি কানাডাসহ ইউরোপ-আমেরিকায় পাচার করেছে, যা গত ১০ বছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার সমান। এ অর্থনৈতিক নৈরাজ্য থামাতে হলে শেখ হাসিনাকে থামাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতারা আরও বলেন, ভারতের আনুগত্য এবং তিস্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুসহ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র এই বিক্ষোভ কর্মসূচি করে।

দলের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, পাঁচ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটির অনুমোদন না আসায় সাবেক কর্মকর্তারা পাঁচ খণ্ডে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম-আন্দোলন পরিচালনা করছেন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার আগমনের প্রতিবাদে ‘কমিটি বিহীন’ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ‘যেখানে হাসিনা, সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচি পালন করেছিল। এদিকে বিএনপির এই কর্মসূচি সফল করতে ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নিউইয়র্ক এসেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি না থাকায় দলের মধ্যে নেতৃত্বে বিভক্তি থাকলেও ‘যেখানে হাসিনা, সেখানেই প্রতিরোধ’  কর্মসূচি পালনে দলীয় নেতাকর্মীদের  ঐক্যবদ্ধ  থেকে কর্মসূচী সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন দলীয় নেতারা। নেতৃবৃন্দ আরও বলছেন, অতীতের মত এসব কর্মসুচিতে, বিশেষ করে জাতিসংঘের সামনে ব্যাপক সমাবেশ ঘটানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু তার এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে একটি ‘স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক আর অনির্বাচিত সরকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশ, জাতি আর দলের প্রয়োজনে প্রবাসের সকল নেত্রীকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘হাসিনা সরকার বিরোধী’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরবেন। গতবারের মত এবারও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেকিং দ্য ইউএন রিলেভেন্ট টু অল পিপলঃ গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যান্ড শেয়ারড্ রেসপন্সিবিলিটিস্ ফর পিসফুল, ইকুইটেবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল সোসাইটিজ্।’

জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। সেখানে রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন। অধিবেশনের ফাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ছাড়াও একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জাতিসংঘে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফর শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে আবুধাবি হয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension