আন্তর্জাতিকপ্রধান খবর

প্লাস্টিক সংকট নিয়ে বিভক্ত বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকদূষণ রোধে এক ঐতিহাসিক চুক্তির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের আলোচনার ষষ্ঠ দফাও ভেস্তে গেছে। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময় শেষ হলেও সমঝোতার আশায় রাতভর চলে বৈঠক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্লাস্টিক উৎপাদন কমানোর পক্ষে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মতবিরোধ কাটেনি। আলোচনা শেষে কিউবার প্রতিনিধি দল হতাশা প্রকাশ করে বিবিসিকে জানায়, আমরা একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হারালেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

২০২২ সালে শুরু হওয়া চুক্তির এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে প্লাস্টিকদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত ক্ষতি বিষয়ে পাওয়া বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। এরই মধ্যে মাটি, নদী, বাতাস, এমনকি মানুষের শরীরেও পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক।

বিতর্কের মূল প্রশ্ন ছিল, উৎপাদন সীমিত করা হবে, নাকি বিদ্যমান দূষণ নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হবে? সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো মনে করে, প্লাস্টিক ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য এবং এর পুনর্ব্যবহারই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান। যুক্তরাষ্ট্রের প্লাস্টিক শিল্প সমিতির সভাপতি বলেন, ‘প্লাস্টিক আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, উৎপাদন নয়, দূষণ বন্ধ করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, প্লাস্টিকের বৈশ্বিক পুনর্ব্যবহারের হার মাত্র ১০ শতাংশ, যা সামান্য বাড়লেও পরিবেশে থেকে যাবে বিপুল প্লাস্টিক। ১৯৫০ সালে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল ২০ লাখ টন, ২০২২ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪৭৫ মিলিয়ন টন এবং নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এটি আরও বাড়বে। যুক্তরাজ্য, ইইউসহ প্রায় ১০০টি দেশ প্লাস্টিকের উৎপাদন কমানো এবং পুনর্ব্যবহারবান্ধব নকশা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে।

পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, কিছু তেলসমৃদ্ধ দেশের মুনাফাকেন্দ্রিক মনোভাব বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের চেয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের প্রতিনিধি বলেন, ‘প্লাস্টিকদূষণ বন্ধে জীবাশ্ম জ্বালানির স্বার্থকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে।’

এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আবার আলোচনা শুরু হবে। ততদিনে সাগর, নদী ও বনভূমিতে প্লাস্টিকের বোতল, প্যাকেট ও অদৃশ্য কণাগুলো ছড়িয়ে পড়তেই থাকবে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension