
রফিকুল ইসলাম
জলতরঙ্গের শঙ্খ বাজে আকাশের নীল গর্ভে,
মেঘের মন্দিরে আজ শ্রাবণের অভিষেক।
মৃত্তিকার তৃষিত ওষ্ঠে নামে বর্ষার প্রেম চুম্বন—
আদিম প্রতিশ্রুতি, জন্মান্তরের শপথের মতো।
আমার উঠোনে জমে থাকা মন-পোড়া বিকেলগুলো
ধুয়ে যায় নিঃশব্দে, কাদায় গলে যায় অহংকার।
টিনের চালে তাল রাখে ফোঁটা ফোঁটা স্মৃতি,
প্রতিটি শব্দে বাজে না-বলা কথার কোরাস।
তুমি কি শুনতে পাও? এই যে জলের অক্ষরমালা
লিখে যাচ্ছে জানালার কাচে আমাদের
সমস্ত পাওয়া না-পাওয়া—
ভেসে যাওয়া স্বপ্নের নাও, ভাঙা সেতুর কান্না,
তবুও তো দাঁড়িয়ে থাকি, ছাদের নিচে নয়,
বৃষ্টির ভেতরেই, সমস্ত দহন নিয়ে।
মানুষের মন তো এমনই— একদিকে ভাঙন,
অন্যদিকে অঙ্কুরোদগম।
যে কান্না ধুয়ে দেয় গ্লানি, সেই তো আবার
শিকড়ে পাঠায় প্রাণের রসদ।
এই যে ভিজছি, এ শুধু শরীর নয়,
ভিজছে ভেতরের যত রুদ্ধ দরজা,
ভিজে নরম হচ্ছে পাথর হয়ে থাকা অভিমান।
বৃষ্টি শেষে যে রোদ উঠবে,
সে তো আমাদেরই বুকের ভেতর থেকে।
তাই শ্রাবণকে অভিশাপ নয়, আশীর্বাদ বলে মানি—
যে আসে সমস্ত মলিনতা ধুয়ে দিতে,
যে শেখায়: ঝরে যাওয়াই শেষ নয়,
ঝরে পড়ার পরেই জেগে ওঠে বীজের মহাকাব্য।



