
বিজেপি সাংসদকে ‘মহাত্মা গান্ধীর খুনিদের সমর্থক’ বললেন আসাদুদ্দিন ওয়েইসি
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুরকে ‘মহাত্মা গান্ধীর শত্রু’ বলে কটাক্ষ করলেন অল-ইণ্ডিয়া-মজলিশ-এ- ঈত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসি। পাশাপাশি ‘মহাত্মা গান্ধীর খুনিদের সমর্থক’ বলেও সম্বোধন করেন ওয়েইসি। সংসদে নাথুরাম গডসেকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই বিজেপি সাংসদের ঊদ্দেশে এই মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার ওয়েইসি লোকসভা স্পিকারকে প্রজ্ঞা ঠাকুরকের মন্তব্য নিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন। দিল্লীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করে ওয়েইসি বলেন, “এটা প্রথমবার নয় যে তিনি এইরকম মন্তব্য করেছেন। এটাই প্রমাণ করে সে মহাত্মা গান্ধীর শত্রু এবং মহাত্মা গান্ধীর খুনিদের সমর্থক বলেও অভিহিত করেছেন। আমি প্রিভিলেজ মোশন দিয়েছি, দেখা যাক কি হয়।”
এই প্রসঙ্গে অল-ইণ্ডিয়া-মজলিশ-এ- ঈত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা ট্যুইট করে লিখেছেন, “আমি লোকসভার ২২৩ এবং ২২৪ ধারায় প্রিভিলেজ মোশন দিয়েছি। নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমিক বলার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী কি পদক্ষেপ নেবেন নাকি আরও একটি নোটিশ পাঠাতে হবে?”
সংসদে দাঁড়িয়ে নাথুরাম গডসেকে দেশভক্ত বলে মন্তব্য করে ফের বিপাকে পরেছে ভোপালের সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর। যার ফলে আবারও বিরোধীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এরপরেই বিতর্কের মুখে পড়ে প্রতিরক্ষা কমিটির পদ থেকে সরানো হয় সাধ্বী প্রজ্ঞাকে।
ডিএমকে সদস্য এ রাজা যখন স্পেশ্যাল প্রোটেকশন বিল নিয়ে কথা বলছিলেন সেই সময়ে তিনি নাথুরাম গডসের প্রসঙ্গ তোলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে থামিয়ে দিয়ে সাধ্বী প্রজ্ঞা জানান এভাবে তিনি একজন দেশভক্তের উদাহরণ দিতে পারেন না ৷ কংগ্রেস নেতারা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন৷ এ রাজা জানান, ৩২ বছর ধরে গডসে মহত্মা গান্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন।
এটাই প্রথম নয় এর আগেও মালেগাঁও বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমী বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি ভোপাল থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। এর আগেও তার মন্তব্য গেরুয়া শিবিরকে যথেষ্ট অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সতর্ক করেছিলেন। গান্ধিজিকে নিয়ে করা মন্তব্য যে সমর্থনযোগ্য নয় তা তিনিও জানিয়েছিলেন। তিনি যে প্রজ্ঞা ঠাকুরকে ক্ষমা করবেন না তাও জানিয়েছিলেন।
এদিন সাধ্বীর এই মন্তব্যর ফলে উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা৷ পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামতে হয় বিজেপি নেতাদের৷ কংগ্রেস নেতারা নাথুরাম গডসেকে নিয়ে এহেন মন্তব্যর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতারা। নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেকে। এর প্রতিবাদে ওয়াক আউট করেন কংগ্রেস সাংসদেরা। তবে ড্যামেজ কন্ট্রোলের জন্য পরে সাংসদ জানিয়েছেন সংসদে তিনি ঐতিহাসিক উধম সিং-কে নিয়ে কথা বলেছেন।



