প্রধান খবরবাংলাদেশ

মাদকাসক্ত বাবা খুন করেছে শিশুপুত্রকে

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  রাজধানীর বাংলামোটর লিংক রোডে এক বাড়িতে মাদকাসক্ত বাবার হাতে শিশুপুত্র খুন হয়েছে। মাদকাশক্ত বাবা নুরুজ্জামান কাজল আড়াই থেকে তিন বছরের শিশু নুর সাফয়াতকে গলাকেটে হত্যার পর সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছে তার মরদেহ। আজ বুধবার ভোরে লিংরোডের খোদেজা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্টো দিকের ১৬ নম্বর বাড়িতে এ নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

র‌্যাব ২ এর কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার সকালে ওই বাসায় এক বাবা তার দুই শিশুসন্তানকে জিম্মি করে রেখেছেন। এমন সংবাদে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যেরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা অভিযানের পর তারা ওই বাড়ির নিদিষ্ট কক্ষে ঢুকতে সক্ষম হন। পুলিশ ও র‌্যাব ভেতরে ঢুকে ওই শিশুর লাশ দেখতে পেয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি বাড়ির ভেতরে ঢুকেছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি শিশুটির বাবা বসে আছেন, তার পাশে একজন হুজুর বসে আছেন। শিশুটিকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো একটি টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে। শিশুটির বাবাকে কোনও সাহায্য লাগবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের কারও সাহায্য লাগবে না। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান।  বেলা একটার দিকে আমি নিজে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে আমার ছেলেকে দাফন করব।

ঘটনা শুনে নুরুজ্জামান কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তার ছোট  ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে  ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের পবিত্র কোরআন খতমের জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তার সঙ্গে যান। এখনও তিনি ভেতরে আটকা আছেন। মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেন নি। দরজা আটকে দিয়েছেন। কাজলের সঙ্গে তার বড় ছেলে সুরায়েত (৪) আছে। নুরুল হুদা উজ্জ্বল অভিযোগ করেন, তার ভাই নুরুজ্জামান কাজল দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলেকে হত্যা করেছে। তার হাতে রামদা ছিল।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ওই বাসায় একটি শিশু মারা গেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। শিশুটির বয়স আড়াই থেকে তিন বছর। তিনি জানান, শিশুর বাবা এর আগে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে  গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাকে জেলেও পাঠানো হয়।

ওসি বলেন, কাজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়না তদন্তের জন্য শিশুর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, শিশুটির বাবার নাম নুরুজ্জামান কাজল। কাজলের বাবার নাম মনু মেম্বার। পরিবারের সদস্যেরা জানান, এলাকায় বেশ সুনাম রয়েছে মনু মেম্বারের পরিবারের। কাজলের আচার-আচরণের জন্য পরিবারের সদস্যরা তার ওপর বিরক্ত ছিলেন।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা আকিল জামান বলেন, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। প্রতিবেশীরা এসে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension