
মামদানির মেয়র নির্বাচন প্রচারে বিদেশি অর্থ অনুদান বিতর্ক
নিউইয়র্ক, অক্টোবর ১২, ২০২৫: নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদপ্রার্থী জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারাভিযান ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সাম্প্রতিক রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর প্রচার তহবিলে প্রায় ১৩ হাজার ডলার বিদেশি উৎস থেকে অনুদান এসেছে — যা স্থানীয় ও ফেডারেল নির্বাচনী আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে গণ্য হতে পারে।
অবৈধ অনুদান নিয়ে প্রশ্ন
নিউইয়র্ক সিটি ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স বোর্ডের (CFB) নথিপত্রে দেখা গেছে, অন্তত ১৭০টি অনুদান এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা দাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে প্রায় ৮৮টি অনুদানের মোট পরিমাণ ৭,১৯০ ডলার এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি। বাকি ৫,৬০৮ ডলার প্রচার দফতর ফেরত দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামদানির দুবাইয়ে অবস্থানরত শাশুড়িও ৫০০ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, যা পরে একই দিনে ফেরত দেওয়া হয়।
প্রচার দফতরের বক্তব্য
মামদানি ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
“যে কোনো অনুদান যদি আইন অনুযায়ী অনুপযুক্ত হয়, তা অবশ্যই ফেরত দেওয়া হবে।”
তবে সমালোচকরা বলছেন, এই জবাব যথেষ্ট নয় — তারা প্রশ্ন তুলছেন কেন বাকি অনুদানগুলো এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি এবং কেন এ বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দেখানো হচ্ছে না।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা
রিপাবলিকান মেয়রপ্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া (Curtis Sliwa) এই ইস্যুতে কঠোর সমালোচনা করে বলেন,
“এটি হয়তো ‘ডার্ক মানি’-এর অংশ — যেখানে ধোঁয়ার নিচে আগুন লুকিয়ে থাকে।”
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি এ বছরের নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন। প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত অনুদান ও ১২.৭ মিলিয়ন ডলার সরকারি ম্যাচিং ফান্ড পেয়েছেন তিনি।
তবে নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে এই বিতর্ক তাঁর প্রচারণাকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইনি প্রেক্ষাপট
মার্কিন আইনে বিদেশি নাগরিকদের রাজনৈতিক অনুদান দেওয়া নিষিদ্ধ। এ ধরনের অনুদান গ্রহণ বা ফেরত না দিলে জরিমানা বা আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হয় প্রার্থীদের।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স বোর্ড ইতিমধ্যেই সকল প্রার্থীর অনুদান তদারকি করছে, ফলে মামদানি শিবিরের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
সূত্র: New York Post



