
নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র
ICE নিয়ে জনমতে মোড় ঘোরার ইঙ্গিত
বিরূপতা কিছুটা কমেছে, তবে আস্থার সংকট এখনো কাটেনি
শাহ্ জে. চৌধুরী :
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) নিয়ে মার্কিন জনমতে বছরের শুরু থেকে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেলেও সংস্থাটির প্রতি প্রতিকূল মনোভাব এখনো অনুকূল মতের চেয়ে বেশি। নতুন এক জাতীয় জরিপে ICE-এর প্রতি নেতিবাচকতার ব্যবধান কমে এলেও সংস্থাটি এখনো ‘নেট নেগেটিভ’ অবস্থানে রয়েছে।
Harvard CAPS/Harris-এর ২৮–৩০ আগস্টের জরিপে ২,১০০ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৩৯ শতাংশ ICE-এর প্রতি অনুকূল, আর ৪৭ শতাংশ প্রতিকূল মত প্রকাশ করেছেন। ফলে সংস্থাটির নেট ফেভারেবিলিটি দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৮ পয়েন্টে। জরিপটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিবন্ধিত ভোটারদের ওপর পরিচালিত হয়েছে।
জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন
জরিপের ধারাবাহিক ফলাফলে দেখা যায়, বছরের শুরুতে ICE-এর প্রতি জনমত আরও নেতিবাচক ছিল। জানুয়ারিতে নেট ফেভারেবিলিটি ছিল মাইনাস ১৬ পয়েন্ট। পরবর্তী মাসগুলোতে কিছুটা উন্নতি হলেও এপ্রিল মাসে মাইনাস ৬-এ ওঠার পর জুলাইয়ে আবার মাইনাস ১১-তে নেমে আসে। আগস্টে তা মাইনাস ৮-এ দাঁড়ায়।
অর্থাৎ, সাম্প্রতিক উন্নতি থাকলেও ধারাবাহিকভাবে জনসমর্থন বাড়ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। জরিপের মাসভিত্তিক ওঠানামার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক sampling variation এবং সাম্প্রতিক সংবাদপ্রবাহের প্রভাবও বিবেচনায় রাখতে হয়।
অভিযান বাড়ছে, বিতর্কও অব্যাহত
জনমতের এই চিত্র এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ICE-এর অভিবাসন enforcement কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে। Reuters-এর ১৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ICE গ্রেপ্তার প্রায় ৫১ হাজারে পৌঁছেছে—যা টানা তৃতীয় মাসের রেকর্ড। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি এমন ব্যক্তিদের নিয়ে, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তবে এদের অনেকেরই চলমান আইনি দাবি, যেমন asylum বা অন্যান্য অভিবাসন আবেদন রয়েছে।
গ্রেপ্তার বাড়লেও deportation একই হারে বাড়েনি। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক deportation প্রায় ১,২০০-এর কাছাকাছি স্থির রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া, আটক রাখার সক্ষমতা, deportation flight-এর সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার মতো বিষয় এতে প্রভাব ফেলছে।
নিউইয়র্কের অভিবাসী কমিউনিটিতে গুরুত্ব
নিউইয়র্কের মতো অভিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে ICE-এর কার্যক্রমের প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটিতে বৈধ কাগজপত্র, asylum, দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও কর্মজীবন এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তার বা detention নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের আইনগত দায়িত্ব ও due process নিয়েও জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল তাই একটি মিশ্র চিত্র তুলে ধরছে—ICE-এর প্রতি নেতিবাচকতা বছরের শুরু থেকে কিছুটা কমেছে, কিন্তু অনুকূল মতামত এখনো প্রতিকূল মতের চেয়ে পিছিয়ে। ফলে আগস্টের এই পরিবর্তনকে জনমতের বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন হিসেবে না দেখে, চলমান ওঠানামার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



