
নিউ ইয়র্কযুক্তরাষ্ট্র
এক সকাল, ছয় জীবন, এক ইতিহাস
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও অমলিন ছয় বাংলাদেশি-আমেরিকানের স্মৃতি
শাহ্ জে. চৌধুরী | নিউইয়র্ক
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। প্রতিদিনের মতোই কর্মস্থলে গিয়েছিলেন হাজারো মানুষ। তাঁদেরই মধ্যে ছিলেন ছয় বাংলাদেশি-আমেরিকান—শাকিলা ইয়াসমিন, নূরুল হক মিয়া, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, শাব্বির আহমেদ ও আবুল কে. চৌধুরী। কিন্তু সেদিন আর কেউ ঘরে ফিরতে পারেননি।
নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো এই ছয়জনের প্রত্যেকের ছিল নিজস্ব জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। শাকিলা ইয়াসমিন ও নূরুল হক মিয়া ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী কাজ করতেন Windows on the World-এ। তাঁর স্ত্রী তখন দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে মোহাম্মদ শাহজাহান, শাব্বির আহমেদ ও আবুল কে. চৌধুরীও ছিলেন নিউইয়র্কের কর্মজীবনের অংশ।
২৫ বছর পরও তাঁদের পরিবারগুলোর কাছে ৯/১১ কোনো দূর অতীত নয়। এটি প্রিয়জন হারানোর এক স্থায়ী শোক।
৯/১১-এর পর বদলে যায় বিশ্ব
টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর শুধু নিউইয়র্ক নয়, বদলে যায় বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। শুরু হয় প্রায় দুই দশকের যুদ্ধ।
এই সংঘাতের পেছনে ছিল আরও দীর্ঘ ইতিহাস—সোভিয়েত আগ্রাসন, শীতল যুদ্ধ, আফগান মুজাহিদিনদের প্রতি মার্কিন সহায়তা, পাকিস্তানের ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে তালেবানের উত্থান।
২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান আবার কাবুলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। দুই দশকের যুদ্ধের পর আফগানিস্তান আবার ফিরে যায় তালেবান শাসনের অধীনে।
ভূরাজনীতির নতুন হিসাব
আফগানিস্তানের তামা, লিথিয়াম, লোহা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্ভাব্য মজুত দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে। প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পদও আন্তর্জাতিক আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে এসব সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য বাস্তবে কাজে লাগাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ।
ফলে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শুধু নিরাপত্তা বা মানবাধিকারের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক শক্তির ভূরাজনৈতিক স্বার্থ।
২৫ বছর পরও নামগুলো রয়ে গেছে
গ্রাউন্ড জিরোতে আজ নতুন ভবন দাঁড়িয়ে আছে। শহর এগিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে।
কিন্তু স্মৃতিফলকে খোদাই করা নামগুলো মুছে যায়নি।
সেই নামগুলোর মধ্যে ছয়টি নাম বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য বিশেষভাবে বেদনাময়।
তাঁরা শুধু ছয়জন মানুষ নন—ছয়টি পরিবার, ছয়টি স্বপ্ন এবং ছয়টি অসমাপ্ত গল্প।
শাহ্ গ্রুপের শ্রদ্ধাঞ্জলি
৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে শাহ্ গ্রুপ নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানাচ্ছে। বিশেষভাবে স্মরণ করছে ছয় বাংলাদেশি-আমেরিকানকে, যাঁরা স্বপ্ন নিয়ে নিউইয়র্কে এসেছিলেন, পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করেছিলেন, কিন্তু আর ঘরে ফিরতে পারেননি।
শাহ্ গ্রুপ সন্ত্রাস, ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে এবং মানবতা, শান্তি, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির পক্ষে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
২৫ বছর পেরিয়ে গেছে।
কিন্তু তাঁদের নাম আজও রয়ে গেছে।
আমরা ভুলিনি।
আমরা ভুলব না।
NEVER FORGET



