
যুক্তরাষ্ট্র
ICE-তে গণনিয়োগের পর গোপন ছাঁটাই, ভেটিং ব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন
ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই শেষের আগেই নিয়োগের অভিযোগ; নতুন কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ
শাহ্ জে. চৌধুরী:
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা ICE-এর ব্যাপক নিয়োগের পর নতুন কর্মকর্তাদের একটি অংশকে নীরবে বরখাস্ত করা হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ, ব্যাকগ্রাউন্ড ভেটিং এবং প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে এরই মধ্যে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক নির্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ICE ২০২৫ সালে বড় ধরনের নিয়োগ অভিযান শুরু করে। প্রায় ১২ হাজার নতুন কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়; কিছু ক্ষেত্রে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাইনিং বোনাস। তবে সাবেক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দ্রুত নিয়োগের কারণে কিছু কর্মী পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই শেষ হওয়ার আগেই কাজে যোগ দেন।
ICE-এর এক সাবেক হুইসেলব্লোয়ার দাবি করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ, পরিচয় ও ক্রেডিট যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এতে সংস্থার নিয়োগ ও ভেটিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে ফিলাডেলফিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ডিপোর্টেশন অফিসার জোসেফ মুর, ৩৮, বরখাস্তের নোটিশ পাওয়ার পর মারা যান। ICE জানিয়েছে, তার অতীত কর্মসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্তাধীন। মুরের পরিবার অবশ্য ICE-এর মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।
সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, নিয়োগের আগেই প্রার্থীদের অতীত যথাযথভাবে যাচাই করা হলে পরবর্তী সময়ে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে নতুন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, যোগ্যতা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ICE-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কর্মকর্তাদের বরখাস্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ কর্মীদের বিরুদ্ধে সংস্থাটি নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তবে দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে ভেটিং ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে ওঠা প্রশ্নে ICE-এর নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী কমিউনিটির জন্য আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।



