
কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব
কানাডাকে সহযোগী সদস্য হিসেবে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে বুধবার সরাসরি এমন প্রস্তাব দিয়েছেন ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অটোয়া ও ব্রাসেলস উভয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে প্রস্তাবটি দেওয়া হলো।
বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বার্ষিক ভাষণ দেন উরসুলা। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতির এই ভাষণ ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ নামে পরিচিত। এ সময় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে প্রথম কোনো বিদেশি নেতা হিসেবে ২৭ দেশের জোটটির পার্লামেন্টে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ভাষণে উরসুলা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছে। তাই ব্রাসেলস (ইইউ সদরদপ্তর) ও অটোয়াকে আরও ঘনিষ্ঠ হতে হবে।’ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে তিনি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানির কথা উল্লেখ করেন।
মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ্য করে উরসুলা বলেন, ‘আমি ইইউ-এর প্রথম সহযোগী সদস্য হিসেবে কানাডার জন্য দরজা খুলে দিতে চাই।’ এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা দাঁড়িয়ে কার্নিকে অভ্যর্থনা জানান। স্টেট অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দ্বিতীয়দিনের পর্বে কার্নির বক্তব্য দেওয়ার কথা আছে।
উরসুলা ফন ডার লাইয়েন বলেন, বাণিজ্যভিত্তিক সহযোগিতা থেকে এখন বৃহত্তর জোট-এর দিকে যাওয়ার সময় এসেছে। তাই কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে যতটা সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করব। একটি প্রযুক্তি জোট গড়ে তুলব। প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তিগুলোকে একীভূত করব। আর্কটিককে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রকল্পে পরিণত করারও সময় এসেছে।
ভাষণে ইইউ-কানাডা সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেন উরসুলা। তিনি বলেন, এটি অন্য কারও বিরুদ্ধে কোনো অংশীদারত্ব নয়; বরং অভিন্ন শক্তির অংশীদারত্ব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে কানাডা ও ইইউ উভয়পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরত্ব বাড়িয়ে অন্য অংশীদারদের দিকে ঝুঁকতে চাইছে। এ পরিস্থিতিতে মার্ক কার্নি ইইউয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে ইইউ-কানাডা সম্মেলন হওয়ার কথা।



