বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যের সতর্কতা: বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা

বাংলাদেশ ভ্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য জারি করা সতর্কতামূলক নির্দেশনা হালনাগাদ করেছে বৃটেন। করোনা মহামারি, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং বাংলাদেশে প্রবেশে করণীয়-বিদ্যমান ট্র্যাভেল এডভাইজারির এই ৩টি সেকশনে নতুন তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। নিরাপত্তা সেশনে বরাবরের মতো বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে মর্মে জারি করা সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃটিশ নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণকালে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

গত ২৫শে অক্টোবর হালনাগাদ করা বাংলাদেশ বিষয়ক বৃটিশ ট্র্যাভেল এডভাইজারিতে বলা হয়- বাংলাদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বৃটিশ নাগরিকদের কোভিড মহামারি চলাকালীন ভ্রমণ বীমা করা এবং এটি পর্যাপ্ত কভার প্রদান করে কিনা তা পরীক্ষা করা আবশ্যক। বাংলাদেশে ভ্রমণের আগে ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের গাইড লাইন মেনে বীমা করে নেয়ার পরামর্শও দেয়া হয়। বার্তায় বলা হয়- প্রতি বছর গড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার বৃটিশ নাগরিক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেন। তাদের বেশির ভাগ ভ্রমণই ঝামেলামুক্তভাবে হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে বলা হয়-ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি আইইডি হামলা ইতিমধ্যে হয়েছে। ভবিষ্যতে ধর্মীয় জমায়েত, রাজনৈতিক সমাবেশ, জনাকীর্ণ এলাকা, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী সংবলিত এলাকা এবং বিদেশি নাগরিকদের পছন্দের স্থানগুলোতে জনসমাগম দেখে হামলা চালাতে পারে সন্ত্রাসীরা। এই সমস্ত জনবহুল এলাকায় স্থানীয় মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সারা বাংলাদেশে ধর্মীয় জমায়েত, উৎসব এবং রাজনৈতিক সমাবেশসহ বড় জমায়েত এড়াতে বৃটিশ নাগরিকদের পরামর্শ দেয়া হয় ওই বার্তায়।

এডভাইজারিতে বলা হয়- মারাত্মক বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিপদ, বিশেষ করে শীতের মাসগুলোতে। ঢাকা বর্তমানে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার দূষণের সম্মুখীন। বর্ষার মওসুমে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে ভ্রমণ বিপজ্জনক হতে পারে। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ। তাছাড়া ডেঙ্গু জ্বরের মতো মশাবাহিত রোগ সারা বছরই দেখা দেয়। ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাই ভ্রমণে এসে মশার কামড় এড়াতে বৃটিশ নাগরিকদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বৃটেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ভ্রমণের আগে জিকা ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য এবং পরামর্শের জন্য, জাতীয় ভ্রমণ সংস্থার নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শও দেয়া হয় ভ্রমণার্থীদের। যদি বৃটিশ সরকারের কাছ থেকে জরুরি সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশের বৃটিশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য মিলতে পারে। বাংলাদেশের কিছু অংশে কনস্যুলার সহায়তা সীমিত সেইসব জায়গায় খুব প্রয়োজন ছাড়া না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় পর্যটকদের।

একই সঙ্গে ওভারসিজ বিজনেস রিস্ক সার্ভিসের কথা তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। বলা হয়-কীভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তাসম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো পরিচালনা করতে হয় ওভারসিজ বিজনেস রিস্ক সার্ভিস সে সম্পর্কে বিদেশিদের তথ্য এবং পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension