যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে এত সময় লাগে কেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেসের এ নির্বাচনের তিন দিন পার হলেও এখনও চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। এখনও বলা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে এক সপ্তাহও লাগতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে এত সময় লাগে কেন—বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের ৩৫টিতে, নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটিতে এবং অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও সিনেটে ভোটাভুটি হয়েছে।

সর্বশেষ ফলাফলে নিম্নকক্ষে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ২১১টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের দরকার আর ৭টি আসন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ১৯৬টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাটের ৪৮টি আসন রয়েছে আর রিপাবলিকানদের রয়েছে ৪৯টি আসন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো—প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম হওয়া। ব্যবধান কম হওয়ায় সেগুলোর ফলাফল আগে প্রকাশ করা যায় না।

আরেকটি কারণ হচ্ছে রানঅফ নির্বাচন। যদি কোনো একক প্রার্থী ৫০ ভাগ বা তার বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হন তখন প্রথম ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফায় (রানঅফ) নির্বাচন হয়। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসনে রানঅফ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল দেরি হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে দেশটির নির্বাচন পদ্ধতি কেন্দ্রীয় না। বিভিন্ন রাজ্য ভিন্ন নিয়মনীতি মেনে নির্বাচন আয়োজন করে। এ ছাড়া রয়েছে পোস্টাল ভোটের নিয়ম। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে পোস্টাল ভোট গণনার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। কখন এসব ভোট গণনা হবে, তারও ভিন্নতা রয়েছে।

পোস্টাল ভোট হলো সেই ভোট যেখানে ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো হয় এবং পোস্ট অফিসের মাধ্যমে সেগুলো আবার ফেরত আনা হয়। পোস্টাল ভোটের কার্যক্রম মূল নির্বাচনের আগেই শুরু হয়ে যায়। তবে এ-সংক্রান্ত ভোটে স্বাক্ষর সংশোধনের জন্য অনেক সময় পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় পেতে পারেন ভোটার।

এ নির্বাচনে ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ পোস্টাল ভোট দিয়েছেন। তারা ৮ নভেম্বরের আগেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আর এতসংখ্যক মানুষ পোস্টাল ভোট দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত ফলাফল পেতে বিলম্ব করছে।

মূল নির্বাচনের দিনের আগে এ ভোটগুলো গণনা করা হয় না, এও ফলাফল দেরিতে প্রকাশের কারণ। কিছু কিছু রাজ্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পোস্টাল ভোট গণনা করার নিয়ম আছে। আর ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে নির্বাচনের দিনের পরের সাত দিন পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিসহ ১৬টি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষে পোস্টাল ভোট গণনা শুরু হয়।

আর ১৯টি রাজ্যে ভোটের দিন পর্যন্ত মেইল ভোট পাঠানোর সুযোগ রয়েছে; যা পরে গণনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্বাচনে প্রায় ১১ কোটি ২৩ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন; যা তাদের মোট ভোটারের ৪৭ শতাংশ।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো ভোট পুনর্গণনা করা। প্রতিদ্বন্দ্বীদের আপত্তি বা কারিগরি ত্রুটির কারণে আবারও ভোট গণনা করা হতে পারে।

অঙ্গরাজ্য অনুযায়ী এখানেও নিয়মের কিছু ভিন্নতা রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিসহ ৪১টি অঙ্গরাজ্যে ভোট পুনর্গণনার অনুরোধ গ্রহণ করা হয়। বাকিগুলোয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনার ব্যবস্থা রয়েছে।

নির্বাচনের আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এ নির্বাচনের ফলাফল পেতে ১২ দিন লাগতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension