
রাজিব গান্ধীর খুনিদের মুক্তি নিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে ভিন্ন মত কংগ্রেসের
ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধী হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি নলিনী শ্রীহরণসহ ৬ হত্যাকারীকে মুক্তি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) এক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট তাদের মুক্তির আদেশ দেন।
আগে থেকে এসব আসামির মুক্তির পক্ষে ছিলেন প্রয়াত রাজিব গান্ধীর স্ত্রী ও কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী। কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর মতের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে কংগ্রেস।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি এনডিটিভিকে বলেন, ‘সোনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে। তার মতের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, পার্টি তার মতের সঙ্গে একমত নয়। আমরা তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছি।’
অভিষেক মনু সিংভি ইতিহাস টেনে বলেন, ‘আগের কংগ্রেস বা বিজেপি কোনো কেন্দ্রীয় সরকারই রাজিব গান্ধীর হত্যাকারীদের মুক্তির পক্ষে ছিল না। আমাদের অবস্থানও তাই।’
রাজিব গান্ধীর হত্যাকারীদের মুক্তির বিষয়ে সোনিয়া গান্ধীর মতটি কয়েক বছর আগের জানিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, ‘রাজিব গান্ধী হত্যা আর দশটি হত্যাকাণ্ডের মতো নয়। এটা একটা জাতীয় ইস্যু। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে কংগ্রেস।’
জানা গেছে, ২০০০ সালে রাজিব গান্ধী হত্যার প্রধান আসামি নলিনী শ্রীহরণের মৃত্যুদণ্ড কমানোর জন্য আদালতকে অনুরোধ করেন সোনিয়া গান্ধী। মূলত সোনিয়া গান্ধীর অনুরোধেই নলিনীর সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে তামিলনাড়ুর ভেলুরের একটি জেলে নলিনীর সঙ্গে দেখা করেন রাজিব ও সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র।
এরপর ২০১৪ সালে নলিনীসহ ছয় আসামির সাজা লঘু করা হয়। একই বছর তামিলনাড়ুর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতা এসব আসামির মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর সবুজ সংকেত দেন।
রাজিব গান্ধী হত্যা মামলার মোট সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাতজন। শুক্রবার ছয়জনের মুক্তির আগে চলতি বছরের মে মাসে আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি এজি পেরারিভালানকে মুক্তি দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই নিজের মুক্তি জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন নলিনী শ্রীহরণ। নলিনী ছাড়া এবার মুক্তি পেয়েছেন অ্যান্থান, নলিনীর স্বামী মুরুগান, রবার্ট পায়াস ও রবিচন্দ্রন।
১৯৯১ সালের ২১ মে মাসে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরামবুদুরে এক নির্বাচনী সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীকে লক্ষ্য করে ধানু নামের এক নারী আত্মঘাতী বোমা হামলা চালান। সেই হামলায় রাজিব গান্ধীর মৃত্যু হয়। ধনু শ্রীলঙ্কার লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলামের (এলটিটিই) সদস্য।




