
কলকাতা প্রতিনিধি: বিজেপি ও কংগ্রেস সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কিসহ হট্টগোলের মধ্যেই শেষ হলো ভারতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। দেশটির সংবিধানের প্রণেতা বিআর আম্বেদকরকে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে সংসদ ভবন চত্বরে শাসক এবং বিরোধী পক্ষের ধস্তাধস্তি হয়।
তারই জেরে বৃহস্পতিবার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। ফলে ফের তিনি গ্রেপ্তার হবেন কিনা এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিজেপির অভিযোগ, তাদের দুই সংসদ সদস্যকে আঘাত করেছেন রাহুল।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৭, ১২৫, ১৩১, ৩৫১ এবং ৩(৫) ধারায় রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ রাহুলের বিরুদ্ধে এই তদন্ত করবেন। পাশাপাশি কংগ্রেস সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও চাইবে পুলিশ। লোকসভার সচিবকে এ-সংক্রান্ত অনুরোধ জানাবে পুলিশ। সিসিটিভিতে খতিয়ে দেখা হবে রাহুল ও আহত সংসদ সদস্যদের গতিবিধি।
বিজেপি সংসদ সদস্যদের করা অভিযোগে ১০৯ ধারা অর্থাৎ খুনের চেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছিল। যদিও দিল্লি পুলিশের এফআইআরে ১০৯ ধারায় রাহুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। তবে ১১৭ ধারায় ইচ্ছাকৃত কাউকে গুরুতর আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে রাহুলের বিরুদ্ধে।
এদিকে রাহুলের পাশে দাঁড়িয়ে সংসদ বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দাবি করেন, আম্বেদকরকে নিয়ে বিজেপির প্রকৃত ধ্যানধারণা প্রকাশ্যে চলে এসেছে, তাই কংগ্রেসের প্রতিবাদে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। সংসদ চত্বরে এদিন তিনি বলেন, সরকার ভয় পেয়ে গেছে। আদানি নিয়ে বিতর্কে ভয় পায় সরকার। সব বিতর্কেই আপত্তি রয়েছে। বিরোধীরা সুর চড়াতেই সরকার ভয়ের মধ্যে রয়েছে। আম্বেদকর ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি প্রিয়াঙ্কার।
তিনি বলেন, সংবিধান তৈরি করেছেন বাবা সাহেব আম্বেদকর। তাঁর অপমান দেশবাসী সহ্য করবেন না। রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গে বলেন, সরকার এতটাই মরিয়া হয়ে গেছে যে, তারা মিথ্যে এফআইআর পর্যন্ত রুজু করাচ্ছেন। রাহুলজি কাউকে ধাক্কা দিতেই পারেন না।



