
রায়ের অপেক্ষা, উদ্বেগ জনমনে
রূপসী বাংলা ডেস্ক:জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণা হবে বৃহস্পতিবার। মামলায় তার কী সাজা হতে পারে, তা জানতে অপেক্ষায় আছেন সবাই। বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের বিশেষ আদালতে এই রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে রায়কে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাত বাড়ার সাথে সাথে কমে আসে যানবাহন।
ঢাকাসহ দেশের ২৮ জেলায় ৭৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের আরও ২০ জেলায় ৫৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবেও বিষয়টির সতর্ক পর্যবেক্ষণে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল।
রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের কথার উত্তেজনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। পুলিশের রাস্তায় রাস্তায় তল্লাশি ও গ্রেপ্তার মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। শঙ্কা রয়েছে রায়ের পর কী হয়, তা নিয়েও।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনেকগুলো ইনফরমেশন আছে, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে তথ্য আছে- তারা নাশকতা করার সরঞ্জাম জড়ো করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড হতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য পুলিশকে সতর্ক হতে হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সারাদেশে কঠোর অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা প্রস্তুত। দেশের জনগণ বিশৃঙ্খলা পছন্দ করে না। বিশৃঙ্খলা করলে আর একবিন্দুও ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
এদিকে বুধবার রাতে রাজধানীর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, সারাদেশে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে পুলিশ দাবি করছে নিয়মিত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেছেন, জিয়া এতিমখানার তহবিলে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আদালত রায় দেয়ার বহু আগেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, ‘আমার জেল হবে’। যেন বিচারক নয়, শাসক মহলই রায় ঠিক করছে।



