অর্থনীতি ও বাণিজ্য

রিজার্ভ চুরির মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে বাংলাদেশকে

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক:  বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির মামলায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৬ সালে  সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে (নিউ ইয়র্ক ফেড) গচ্ছিত থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছিল। হ্যাকিং-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাচার করা হয়েছিল ফিলিপাইনের ব্যাংকে। চুরি যাওয়া ওই রিজার্ভ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিউ ইয়র্ক ফেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংককে ‘পরামর্শগত সহায়তা’ (টেকনিক্যাল সাপোর্ট) দেবে তারা।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক ফেড-এ গচ্ছিত ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের রিজার্ভ চুরি হয়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফিলিপাইনের একটি ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে সরানো হয়েছিল সেই অর্থ। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলারের ক্ষেত্রে চুরি ঠেকানো গেলেও ফিলিপাইনে চলে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশিরভাগই উদ্ধার করা যায়নি। এখনও উদ্ধার না হওয়া ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ফিরে পেতে  যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিউ ইয়র্ক ফেড-এর বিবৃতি সূত্রে জানিয়েছে, ওই মামলায় বিভিন্ন ধরনের ‘পরামর্শগত সহায়তা’র মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রিজার্ভ উদ্ধারে কাজ করবে তারা। সাধারণভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাইরে দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে যে সহযোহিতা করে, তাই ‘পরামর্শগত সহায়তা’।  সহায়তাগুলো কেমন হতে পারে তা নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চুরি হওয়া রিজার্ভ উদ্ধারে সহায়তা দিতে ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও দলের সঙ্গে যৌথ বৈঠক করা হবে’ নিউ ইয়র্ক ফেডের পক্ষ থেকে।

২০১৬ সালে হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাউন্ট হ্যাক করে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করে। সেখান থেকে  চুরির অর্থ ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসোতে রূপান্তরের পর চলে যায় দুটি ক্যাসিনোতে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এ ঘটনায় মামলা করে ফিলিপাইন সরকার।  রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হওয়ায় গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর কারাদণ্ড দেয় ফিলিপাইনের আদালত। তবে একক ব্যক্তিকে দোষী করে দেওয়া রায়ে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ সময় ১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। রিজার্ভ চুরির অর্থ ফিরিয়ে আনতে ও দোষীদের বিচার নিশ্চিতে দায়ের করা এই মামলায় আসামি করা হয়েছে খোদ আরসিবিসি ব্যাংককেই।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension