
লঙ্ঘন হচ্ছে নির্বাচনী আচরণবিধি
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, ভোটের নির্ধারিত তারিখের ২১ দিন আগে কোনও ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। এবং সব ধরনের প্রচারসামগ্রী হবে সাদাকালো।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্ব ঘোষণা সত্ত্বেও ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার সারানো হয় নি। ইসির বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী- রোববার (১৮ নভেম্বর) রাত ১২টার মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণামূলক পোস্টার-ব্যানার-বিলবোর্ড ইত্যাদি অপসারণের কথা ছিল।
আজ ১৯ নভেম্বর সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকার মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সিটি কলেজ, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল, কাঁটাবন, বাংলামোটর, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, কাওরান বাজার, মগবাজার, মহাখালী, গুলশান, বনানী, জাতীয় প্রেসক্লাবসহ আরও কিছু এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণামূলক পোস্টার দেখা গেছে। তবে পাশাপাশি এসব পোস্টার অপসারণের দৃশ্যও দেখা গেছে। এসব এলাকায় যেসব পোস্টার দেখা গেছে, সেসবই আওয়ামী লীগ নেতাদের।
সকাল ৮টায় মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজের প্রধানফটকের দু পাশেই দেখা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের বেশকিছু নির্বাচনী প্রচারণামূলক রঙিন পোস্টার।
সায়েন্স ল্যাব ফুটওভার ব্রিজের নিচের অংশ, এলিফ্যান্ট রোডমুখী লেন, দেখা গেছে, ঢাকা ২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মনির খান, ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাহারুল ইসলাম সোহেলের পোস্টার সাঁটানো।
একই এলাকার বিসিএসআইআরের প্রধান ফটক ঘেঁষা দেয়ালেও ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পোস্টার সাঁটানো। এলিফ্যান্ট রোডের প্রধান সড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন বিপণী বিতানের দেয়াল ও অলিগলির মুখে রয়েছে হাজি সেলিম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কানাডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ার রানাসহ আরও কয়েকজনের পোস্টার।
সেগুনবাগিচার করতোয়া কুরিয়ার অ্যান্ড পার্সেল সার্ভিস এর আশপাশে নির্বাচনী প্রচারণামূলক বেশকিছু পোস্টার দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কার্যালয়ের এক পাশের দেয়াল থেকে পোস্টার অপসারণ করতে দেখা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মী সোহেল ও আলমকে। তবে কার্যালয় ভবনের গায়ে লাগানো বিপুল পরিমাণ পোস্টার লাগানো আছেই।
ঢাকা সিটি কলেজ থেকে ইন্দিরাগান্ধী কালচারাল সেন্টার পর্যন্ত দেয়াল, সিরডাপ মিলনায়তন টু ঢাকা প্রেসক্লাবের দেয়াল, সেগুনবাগিচার বেশকিছু দেয়াল, কাঁটাবন মোড়ের এক পাশের দেয়াল থেকে পোস্টার তুলে ফেলতে দেখা গেছে সিটি করপোরেশন কর্মীদের।
এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে লাগানো আগাম নির্বাচনী পোস্টার-ব্যানার গত রাতের মধ্যে সরে যাওয়ার কথা। যারা এখনও ইসির এ নির্দেশ মানেন নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে যারা ইসির নির্দেশনা মানে নি, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ইসি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আগাম প্রচারণার জন্য প্রার্থিতা বাতিল হবে না।



