
লাস ভেগাসের আলোর নিচে আরেক পৃথিবী: মাটির নিচে বসবাসরত মানুষের জীবনের গল্প
শাহ্ জে. চৌধুরী
বিশেষ প্রতিবেদন: ঝলমলে আলো, ক্যাসিনোর দ্যুতি, বিলাসবহুল হোটেল আর বিনোদনের রাজধানী হিসেবে বিশ্বে পরিচিত লাস ভেগাস। কিন্তু এই চকচকে শহরের নিচে আছে আরেক বাস্তবতা—একটি অদৃশ্য পৃথিবী, যেখানে শত শত মানুষ দিনরাত কাটান অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে এবং বিপদসংকুল টানেলে। শহরের ঝলকানির নিচে এই মানুষগুলো পরিচিত “Tunnel Dwellers” বা সহজ ভাষায় মাটির নিচের বাসিন্দা হিসেবে।
মাটির নিচে কেন আশ্রয়?
ক্লার্ক কাউন্টির মরুভূমির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত টানেলগুলো অস্বাভাবিকভাবে পরিণত হয়েছে অসংখ্য গৃহহীন মানুষের আশ্রয়স্থলে।
বহু মানুষ সেখানে থাকে কারণ—
• ভাড়া ও বাড়ির দাম নাগালের বাইরে
• দীর্ঘদিনের বেকারত্ব
• পারিবারিক বিচ্ছেদ
• মাদকাসক্তি বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
• সমাজের মূলধারার জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতা
অনেকেই বলেন—
“উপরে আলো আছে, কিন্তু জায়গা নেই; নিচে অন্ধকার, কিন্তু অন্তত মাথা গোঁজার স্থান আছে।”
জীবনযাত্রা: টানেলের অন্ধকারে বেঁচে থাকার সংগ্রাম
এই টানেলগুলোতে নেই বিদ্যুৎ, নেই নিরাপদ পানি, নেই বাথরুম, নেই নিরাপত্তা।
অন্ধকারে টর্চলাইট, মোমবাতি বা ছোট ব্যাটারি লাইটই তাদের ভরসা।
মানুষগুলো নিজেদের মতো করে বানায়—
• কার্ডবোর্ড ও কাঠ দিয়ে ছোট ঘর
• ক্যানভাস বা কম্বল দিয়ে দেয়াল
• ফেলনা আসবাব দিয়ে বসার স্থান
• কাটা বালতি বা প্লাস্টিক টবে রান্নার জায়গা
সেখানে দিনের পর দিন কাটে নীরব, অদৃশ্য ও কঠিন এক জীবনে।
বড় বিপদ: ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’
লাস ভেগাসে হঠাৎ বৃষ্টি হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই টানেলগুলো ভরে যায় ভয়াবহ স্রোতে।
অল্প বৃষ্টিতেও আসতে পারে “Flash Flood”—যা প্রতি বছর অনেকের জীবন কেড়ে নেয়।
টানেলে থাকা অনেকেই এ নিয়ে বলেন, “আমাদের ঘর নদীতে ভেসে যেতে মাত্র এক মিনিট লাগে।”
সমাজসেবা সংস্থার তৎপরতা
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন—
• খাবার সরবরাহ করে
• পরিষ্কার কাপড় দেয়
• অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে
• মাদকমুক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দেয়
কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সেই সহায়তা এখনো অপ্রতুল।
লাস ভেগাস—দুই মুখের শহর
উপরে বিলিয়ন ডলারের বিনোদন সাম্রাজ্য, নিচে অমানবিক বেঁচে থাকার লড়াই।
এই বৈপরীত্যই যেন বলে দেয়—
লাস ভেগাস কেবল আলোয় নয়, অন্ধকারেও ভরা।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান
মাটির নিচে বসবাসরত মানুষগুলো অপরাধী নয়—তারা অসহায়, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন।
তাদের গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
মানুষ বেঁচে থাকার জন্য আশ্রয় খোঁজে, আর সমাজের দায়িত্ব হলো সেই আশ্রয়টুকু নিশ্চিত করা।



