প্রধান খবরবাংলাদেশ

শারদীয় দুর্গোৎসব: কুমারীপূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল

শারদীয় দুর্গোৎসবে গতকাল শুক্রবার মহাষ্টমীর দিনে কুমারীপূজায় ছিল মানুষের ঢল। রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে হাজার হাজার ভক্ত-পূজারি এবং দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে এই পূজা হয়েছে।

এদিকে দেশজুড়ে মণ্ডপের নিরাপত্তায় তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি হটলাইন নম্বরও চালু করেছে। যে কোনো নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনে ০১৭৬৬৮৪৩৮০৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে সরকার। গতকাল দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার পূজার জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর আগে প্রতি বছর দুর্গাপূজায় ২-৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতো।

পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন সকাল ৭টা ১৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ হয়। এর পর সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪১ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধি পূজা। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মণ্ডপে পূজার সময়ের কিছুটা হেরফের ঘটে। সর্বত্র পূজা শেষে ভক্ত ও পূজারিরা অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলিতে অংশ নিয়েছেন। উৎসবের চতুর্থ দিনে আজ শনিবার মহানবমী। তবে পঞ্জিকামতে মহানবমী পূজার পরই দশমীবিহিত পূজাও অনুষ্ঠিত হবে। আজ সকাল ৬টা ১২ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ আরতি থাকবে। সকাল ৮টা ২৬ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা অন্তে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হবে। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের পূজামণ্ডপসহ মণ্ডপে মণ্ডপে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে আরতি প্রতিযোগিতা।

গতকাল বেলা ১১টায় রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপে সব নারীতে মাতৃবুদ্ধি রূপ উপলব্ধি করতে আয়োজিত হয় কুমারীপূজা। এবার দেবীর প্রতীকীরূপে পূজা প্রদান করা হয় ৮ বছর বয়সী কুমারী সংহিতা ভট্টাচার্যকে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে তার নামকরণ করা হয় কুবজিকা। ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় ভট্টাচার্য ও অর্পিতা ভট্টাচার্যের মেয়ে সংহিতা ভট্টাচার্যকে সকালে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। ফুলের মালা, নানান অলংকার ও প্রসাধনে নিপুণ সাজে সাজিয়ে পূজা দেওয়া হয় তাকে। দেবীর মঞ্চে তাকে অধিষ্ঠানের আগে মন্ত্রোচ্চারণ ও ফুল, বেলপাতার আশীর্বাদ পৌঁছে দেওয়া হয় সবার কাছে। এর পর শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। হাজারো হিন্দু নারীর উলুধ্বনি আর ধর্মপ্রাণ মানুষের বিনম্র শ্রদ্ধার মধ্যদিয়ে পূজা শেষ হয়।

কুমারীপূজাকে ঘিরে রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল থেকেই ছিল অসংখ্য মানুষ। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিডিআর ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ছাড়াও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়। মিশন গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পরই ভক্তদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলেছে। গোপীবাগ মোড় থেকে গোপীবাগ মাজার পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। দর্শনার্থী ও পূজারিদের ব্যাপক ভিড়ে টিকাটুলী, ইত্তেফাক মোড়সহ ওই এলাকায় যানজট দেখা দেয়। মোড় থেকে হেঁটে মানুষ কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে মণ্ডপে প্রবেশ করেছেন। কুমারীপূজা শেষে প্রায় ৩৫ হাজার ভক্তের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ঢাকা ছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশনের নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি মঠ এবং কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপে গতকাল কুমারীপূজার আয়োজন করা হয়।

মহাষ্টমী পূজা শেষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পূজামণ্ডপেও ১০ হাজার ভক্তের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। পূজা শেষে সন্ধ্যায় মণ্ডপে ভোগ আরতির আয়োজন করা হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension