বাংলাদেশরাজনীতি

শেখ হাসিনার উন্নয়ন কিচ্ছাকাহিনিকেও হার মানিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘রাষ্ট্র আপনাকে ভোটের অধিকার দিয়েছে, তাই ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। ৭ তারিখ (২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি) আপনার এই অধিকার প্রয়োগ করতে ভোট কেন্দ্রে সকাল সকাল যাবেন। যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন।

আমরা নৌকা মার্কায় ভোট চাই। সুষ্ঠু সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সবাই লাইন ধরে যেভাবে ভোট দেয়, ঠিক সেভাবেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই ভোটে নৌকার ধস নামানো বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম-৭ আসনে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নে গণসংযোগকালে আয়োজিত পথসভায় ভোটারদের উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ও টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা, মরিয়মনগর, চন্দ্রঘোনা কদমতলি ও স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকে দেশ পরিবর্তন হয়ে গেছে, আমরা গতবার স্লোগান দিয়েছিলাম ‘আমার গ্রাম আমার শহর’। অর্থাৎ গ্রামগুলোকে শহরের মতো বানাব। এখন গ্রাম শহরের মতো হয়ে গেছে।

আগে গ্রামের উঠানে গোল ধরে বসে বাদশার কিচ্ছা শুনানো হতো, বাদশা রাতের আঁধারে প্রজাদের দরজায় খাবার দিয়ে আসত। এখন শেখ হাসিনার উন্নয়ন সেই কিচ্ছাকাহিনিকেও হার মানিয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ঈদ, পূজা-পার্বণে ১৫ টাকা দামের চাল, ২০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল, বিনামূল্যে চাল, ফেয়ার প্রাইজ কার্ড, টিসিবির কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, পঙ্গু ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ ১৮ রকমের ভাতা দিচ্ছে সরকার। আবার নারীদের কাছে মোবাইলে সরকারের টাকা পৌঁছে যায়। এসব আমরা আগে ছোট থাকতে কিচ্ছাকাহিনিতে শুনতাম। এখন মানুষের মোবাইলে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে শেখ হাসিনা।

পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমের সঞ্চালনায় রোয়াজারহাটস্থ রাঙ্গুনিয়া ক্লাব মাঠে আয়োজিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছর আগে কাপ্তাই সড়ক ছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় আর কোনো কার্পেটিং রাস্তা ছিল না, এখন রাঙ্গুনিয়ার অভ্যন্তরে কার্পেটিং ছাড়া কোন রাস্তাটা আছে সেটি গুণে দেখতে হবে। যেখানে পানি উঠে সেখানে করা হয়েছে আরসিসি ঢালাই রাস্তা। সব রাস্তার পাশে এখন সুন্দর সুন্দর পাকা ঘরবাড়ি। গ্রামে গ্রামে টেলিভিশন ডিস এন্টেনা, ওয়াইফাই লাইন, অধিকাংশ বাড়িতে এখন এয়ারকন্ডিশন চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ১৫ বছর ধরে আপনারা আমাকে তিনবার এমপি নির্বাচিত করেছেন। এই ১৫ বছরে আমি কি করেছি সেই কৈফিয়ত আপনারা না চাইলেও আমার দায়িত্ব হচ্ছে কৈফিয়ত দেওয়া। আমি প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি শুধু দলের এমপি হব না, রাঙ্গুনিয়ার যেকোনো মানুষ আমার কাছে গেলে সে কোন দলের, কোন মতের বা পথের সেটি দেখি নাই। আমার কাছে আসলে যে দল বা মতেরই হোক না কেন, তার উপকার করার চেষ্টা করেছি। আমার ধর্ম হচ্ছে কারো অপকার না করা, উপকার করা।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা স্বজন কুমার তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন খান স্বপন, শামসুদ্দোহা সিকদার আরজু, বদিউল খায়ের লিটন চৌধুরী প্রমুখ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension