
শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচার শুরু
রূপসী বাংলা ডট ইউএস ডেস্ক :
সরকারের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নয়নের ছোঁয়া সিলেটের প্রতিটি ইউনিয়নে পৌঁছে দিয়েছি। সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমরা ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আজ একযোগে ৩৫টি প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর ৪ বছর মেয়াদ পূর্ণ করে তাঁর সরকার ৫ বছরে পদার্পণ করেছে। সামনে ২০১৮ সালের শেষের দিকে দেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের মেয়াদ ৫ বছরে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে।
নৌকা মার্কায় জনগণ ভোট দেয়ার কারণেই আজকে বাংলার ঘরে ঘরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশের সুনাম হয়। বাংলাদেশ পুরস্কার পায়। আর অপরদিকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ তিরস্কৃত হয়। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস- হয়ে যায় তাদের মূল কাজ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ গত নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি’র তথাকথিত আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-তান্ডব চালিয়েছিল। সেসময় অনেক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সিএনজি চালককে পুড়িয়ে মেরেছে তারা। হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলে।
তিনি বলেন, আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কেটে ফেলে, আমরা রাস্তা করি, তারা ধ্বংস করে। তবে আমরা তাদের সেই জ্বালাও-পোড়াও কঠোর হাতে দমন করেছি। জনগণ যখনই তাদের প্রতিরোধ করেছে, তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকার যে কাজ করে যাচ্ছে তাতে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে দেশবাসী উন্নয়নের ছোঁয়াটা পেত না।
তিনি বলেন, ‘লুটেরা (বিএনপি) ক্ষমতায় এলে লুটপাট করে খেত আর ঐ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ চালাতো।’
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তাদের আমলে বাংলা ভাইয়ের সৃষ্টি, জঙ্গিবাদের সৃষ্টি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশে সন্ত্রাস ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তাঁর সরকার করেছে, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছে এবং এদেশে কোন অন্যায়-অবিচারকে তাঁর সরকার বরদাশত করবে না, কোন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি দেশকে সন্ত্রাস- জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখতে সরকার প্রধান ধর্মীয় শিক্ষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং তাদের অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার আহবান জানান।
কার সন্তান কোথায় যায় এবং কার সঙ্গে মেশে সে বিষয়ে খেয়াল রাখার জন্য প্রত্যেক অভিভাবকের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এমনকি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও জনগণকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী ধর্মের মৌলিক শিক্ষা প্রদানের আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস দূর করতে সক্ষম হয়েছে বলেই সিলেটবাসী আরামে ঘুমাতে পারছেন। সিলেট আজকে শান্তির নগরী।
এই শান্তি বজায় রাখার জন্য তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-গঞ্জ এবং ওয়ার্ড-ইউনিয়নে তিনি শান্তি বজায় রাখার আহবান জানান।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ। ইনশাল্লাহ জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই সিলেটের প্রয়াত রাজনীতিক আবদুস সামাদ আজাদ, হুমায়ূন রশীদ চৌধরী, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, দেওয়ান ফরিদ গাজী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মরণ করেন।
২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন রাষ্টদূত আনোয়ার চৌধুরী ও বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের উপর গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
তিনি এ সময় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত দলীয় নেতা-কর্মীদেরও স্মরণ করেন।
সকালে বিমানে সিলেটে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শহরের দরগাহ মহল্লায় যান। সেখানে হজরত শাহজালাল (র:) মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত শেষে যান শহরের খাদিম নগরে, হজরত শাহপরান (র:) মাজারে। এরপর সুরমা পারের কুশিঘাট এলাকায় হজরত গাজী বোরহান উদ্দীনের মাজার জিয়ারত করেন তিনি। বিকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগদান করেন। সেখানে তিনি সিলেটবাসীর জন্য ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।



