বিনোদন

শ্রীদেবীর মৃত্যু ‘পরিকল্পিত খুন’ থেকে #MeToo, ২০১৮র সবথেকে বড় বিতর্ক

রূপসী বাংলা বিনোদন ডেস্ক: ২০১৮ শেষ৷ সারা বছরটা কীভাবে যে গেল কেউ টেরও পেল না৷ দশ-পনেরো দিন আগে থেকেই ২০১৯ এর আগমণের সুর ধরে ফেলেছে সকলে৷ লেট নাইট পার্টি, পিকনিক, কিংবা বাড়িতে আড্ডা, এক একজন নিজেদের মতো আনন্দ করে চলেছে৷ বাদ নেই সেলেব্রিটিরাও৷ তারকাদের কথা এলেই চলে আসে ফিল্মি জগতের কথা৷ আগামী বছর কী ফিল্ম আসবে, কার সঙ্গে কার বিয়ে হবে এসব তো থাকবেই কিন্তু ২০১৮ এর গসিপ কলমে কার কার নাম শিরোনামে রইল সেটা দেখাও বেশ জরুরি৷

বৌদি-বিবাদ :
বৌদি কার? এই নিয়ে ঠাকুরপোদের মধ্যে ভারী ঝামেলা বেঁধেছিল৷ সামনলাতে পারছিল না খোদ বৌদিই৷ কিন্তু হঠাৎ বৌদিদের মধ্যেই লেগে গেল সমস্যা৷ বৌদিদের কেন বলছি? কথা হচ্ছে ওয়েব সিরিজ ‘দুপুর ঠাকুরপো’ নিয়ে৷ প্রথম সিজনে ‘উমা’ বৌদির চরিত্রে অভিনয় করে স্বস্তিকা আট থেকে আশির মনে যে অ্যাড্রেনালিন রাশ তৈরি করেছিলেন তা সহজে থামার নয়৷ দ্বিতীয় সিজনে কথা ছিল তাঁকেই নেওয়ার৷ অথচ ওয়েব সিরিজের নির্মাতারা দ্বিতীয় সিজনের বৌদি হিসেবে শ্রীলেখাকেও কথা দিয়ে বসে আছে৷ দু’জনকেই হাতে রেখে নির্মাতারা বল ফেলে দিয়েছিল ভোজপুরী অভিনেত্রী মোনালিসার কোর্টে৷

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দাবানলের মতো আগুন ধরিয়ে দিলেন শ্রীলেখা মিত্র এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়৷ সরাসরি বলে দিলেন বৌদির জায়গায় মোনালিসার মতো নিম্নমানের কাজ তাঁরা করতে পারবেন না৷ তাই জন্যই নাকি নির্মাতারা তাঁদের সরিয়ে দিয়ে মোনালিসার কাছে ছুঁটে গিয়েছিলেন৷ যদিও মোনালিসা কিন্তু এ নিয়ে একটা শব্দও করেননি৷

#MeToo :
একটা হ্যাশট্যাগ ভেঙে গুড়িয়ে দিল বলিউডর তাবড় তাবড় পরিচালক, প্রযোজকদের৷ হলিউডে বহু আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল #MeToo মুভমেন্ট৷ তারানা বার্ক নামক এক আমেরিকান সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই প্রতিবাদ৷ কাজের সূত্রে কিংবা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা কীভাবে নীচু পদের মহিলাদের যৌন হেনস্তা করে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছিল #MeToo র উদ্দেশ্য৷ তনুশ্রী দত্তের হাত ধরে বলিউডে উঠেছে #MeToo দাবানলের মতো ছড়িয়ে গিয়েছে৷

নানা পাটেকার, অলোকনাথ, কৈলাশ খের, সাজিদ খান, অনু মালিক, বিকাশ বেহেল, সুভাষ ঘাই, রজত কাপুর, আলি জফর, তালিকার শেষ নেই৷ এক একজন তারকার পেছনে প্রায় অসংখ্য মহিলাই যৌন হেনস্তার অভিযোগ জানিয়েছেন৷ যার জেরে CINTAA (চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন সংস্থা) অলোকনাথ এবং সাজিদ খানকে বিতারিতও করেছে৷ প্রত্যেক অভিযুক্তই তাঁদের বিরুদ্ধে আসা যৌন হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷

শ্রীদেবীর রহস্যমৃত্যু :
কিংবদন্তী অভিনত্রী শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে কথা উঠলেই আজও শোকের ছায়ায় ভরে ওঠে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে দর্শকমহল৷ দুবাইয়ের হোটেলরুমে বাথটাবে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল হয়েছিল শ্রীদেবীর৷ যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে৷ তাঁর মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহের মাঝেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য৷ দিল্লি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসিপি বেদ ভূষণ দাবি করেছিলেন শ্রীদেবীর মৃত্যু পরিকল্পিত খুন৷ এক সাক্ষাৎকারে বেদ ভূষণ দুবাই পুলিশের ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি তুলে ধরেছিলেন৷ এই রিপোর্ট যে তাঁকে সন্তুষ্ট করেনি, তাও উল্লেখ করেন তিনি৷

তাঁর দাবি যে কাউকেই বাথটবের জলে জোর করে ফেলে দেওয়া যায়৷ জলে ডুবিয়ে রেখে তার নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকে মেরে ফেলা সম্ভব৷ এই ধরণের খুনে কোনও প্রমাণ থাকেনা৷ ফলে খুব সহজেই একে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে প্রমাণ করা যায়৷ শ্রীদেবীর ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে বলে ধারণা প্রাক্তন এসিপির৷ দুবাই পুলিশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট উল্লেখ করে বেদ জানান, দুবাইয়ের আইন ব্যবস্থার প্রতি তাঁর সম্মান রয়েছে। কিন্তু তারা শ্রীদেবীর ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন, তা ভারতীয় পুলিশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি৷

বেদ ভূষণ আরও জানিয়েছেন, শ্রীদেবীর মৃত্যুর তদন্ত করার জন্য তিনি দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার্সে গিয়েছিলেন। কিন্তু হোটেলের ওই ঘরে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাই তিনি পাশের ঘর থেকে সম্পূর্ণ ঘটনাটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। এবং সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে, শ্রীদেবীর মৃত্যু পরিকল্পিত। এর আগে, শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আইনজীবী সুনীল সিং। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ৫.৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট একজন কী করে ৫.১ লম্বা বাথটাবে ডুবে যান!

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension