আন্তর্জাতিক

সর্বদলীয় সরকার গঠনের চেষ্টা শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রীর

সর্বদলীয় সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধান বিরোধী দলের নেতা সাজিথ প্রেমাদাসার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে।

চিঠিতে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে দলীয় রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শিগগির এ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্রমাসিংহে বলেন, রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূর্ণ করা যায়। যার জন্য প্রয়োজন সংসদের সব দলের সমর্থন।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নতুন এই রাজনৈতিক পথ। যার জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ শক্তি ও অঙ্গীকার।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে নিয়োগ দেওয়ার পর এবার নতুন চার মন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে।

গত সোমবার সাবেক প্রধনমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষে পদত্যাগ করার পর শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নেন ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে। আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক এক সংকটময় পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। ৭৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এ রাজনীতিবিদ দেশটির ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) নেতা। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সংকট মোকাবিলায় প্রধান বিরোধী দল সামাজি জানা বালাওয়েগয়ার (এসজেবি) নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাকে সরকারের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে এর আগে বিরোধী দলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর গোতাবায়া সিদ্ধান্ত নেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে দায়িত্ব দেওয়ার। এর আগে প্রেমাদাসা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন গোতাবায়া প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকাকালীন অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেবেন না তিনি। যদিও পরে প্রেমাদাসা প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি হন। কিন্তু ততদিনে বেশ দেরি হয়ে গেছে। এরপর প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া সাফ জানিয়ে দেন তিনি তার সিদ্ধান্ত বদলাবেন না।

মাহিন্দা রাজাপাক্ষের পদত্যাগের পর থেকেই জল্পনা-কল্পনা চলছিল কে হবেন শ্রীলঙ্কার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী? এর মধ্যেই গত বুধবার গোতাবায়া রাজাপাক্ষের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তারপর থেকেই খবর আসতে থাকে এর আগে পাঁচবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা রনিল বিক্রমাসিংহেই দেশের হাল ধরতে চলেছেন।

সর্বপ্রথম ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিক্রমাসিংহে। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল, ২০১৫ থেকে ২০১৫ (১০০ দিন), ২০১৫ থেকে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি লঙ্কান প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন দেশের অর্থনীতি কতটা পুনরুদ্ধার করতে পারেন এই রাজনীতিক সেটাই দেখার বিষয়। আবার প্রেমাদাসা নতুন সরকারে যোগ দেবেন নাকি দেশটির প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন সেটি এখনো অস্পষ্ট।

অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শ্রীলঙ্কায় সরকার পতনের দাবিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলছিল। ৯ মে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে আনা হয়। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালানোয় দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এবং প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার পদত্যাগের দাবিতে চলা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে চলে যায়। এরপর দুই দিনের সহিংসতায় দেশটিতে নয়জন নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন আরও তিনশ জনের মতো।

আন্দোলনের মুখে মাহিন্দা রাজাপাক্ষে পদত্যাগ করলেও এখনো প্রেসিডেন্ট পদ আঁকড়ে আছেন তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাক্ষে। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, গোতাবায়াকেও পদত্যাগ করতে হবে। আর নয়তো তারা কোনো সরকারে যোগ দেবে না।

১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর এই প্রথম শ্রীলঙ্কাকে চরম অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর বড় কারণ বৈদেশিক মুদ্রার অভাব। করোনা মহামারি সামাল দিতে না পারায় আরও নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয় দেশটিতে। যার ফলে বেড়ে যায় তেল, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সাধারণ মানুষ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension