
সিনহার বিরুদ্ধে ভাই ও ভাতিজার সাক্ষ্য
ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এস কে সিনহার ভাই নরেন্দ্র কুমার সিংহ ও ভাতিজা শঙ্খজিৎ সিংহ।
সোমবার এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন সাক্ষীরা হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। এসময় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম সাক্ষীদের জবানবন্দি নেন।
নরেন্দ্র কুমার সিনহা জবানবন্দিতে বলেন, তিনি অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা। এস কে সিনহা তার আপন ছোট ভাই। নৌ অধিদপ্তরের প্রধান বাতিরক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে ২০১২ সালে তিনি অবসরে যান। তার ও ভাতিজা শঙ্খজিতের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় একটি যৌথ হিসাব রয়েছে। ২০১৬ সালে ওই হিসাব খোলা হয়। এস কে সিনহা সরকারি পদে কর্মরত ছিলেন। তাই ব্যাংক হিসাব খোলার সমস্যা থাকায় তিনি (এস কে সিনহা) তাকে একটি হিসাব খুলতে বলেন। পরে তিনি উত্তরা শাখায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। আগে থেকেই ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সবকিছু প্রস্তুত রেখেছিলেন। তিনি ও তার ভাতিজা শঙ্খজিৎ গিয়ে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন। ওই ব্যাংক হিসাবে তিনি কোনও টাকা জমা দেননি কিংবা কোনও টাকা সেখান থেকে উত্তোলন করেন নি। কোনও চেকেও তিনি স্বাক্ষর করেন নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাদের যৌথ ব্যাংক হিসাবে দুটি চেকের মাধ্যমে টাকা গেছে। একটি চেকে টাকার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪৯ লাখ ৬ হাজার টাকা এবং অন্য চেকে টাকা জমা হয় ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
নরেন্দ্র কুমার সিনহা আরও বলেন, উত্তরা শাখার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে তার হিসাবে এস কে সিনহার সুপ্রিম কোর্টের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই টাকা জমা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি ও শাহিনুর ইসলাম সাক্ষীদেরকে জেরা করেন। এদিন তাদের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হওয়ায় পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন বিচারক। এ নিয়ে মামলাটিতে অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।
জানা যায়, আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) গুলশান শাখা থেকে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে চার কোটি টাকা ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে তা একই দিন পে-অর্ডারের মাধ্যমে এসকে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেন। এরপর ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে এসকে সিনহা নগদ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগে গত ১০ জুলাই দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে দুদক কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের চার কোটি টাকা জব্দ করা হয়।❐



