যুক্তরাষ্ট্র

হামাস ও রাশিয়াকে জিততে দেব না: বাইডেন

ওয়াশিংটনের ওভাল অফিস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া কিংবা ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস কাউকেই জিততে দেওয়া হবে না।’

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বাইডেন সবেমাত্র ইসরায়েল সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। ভাষণে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোর সঙ্গে ইসরায়েল ও ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসাবে আমার কাছে জিম্মি আমেরিকানদের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।’
হামাসকে বিশ্বের জঘন্যতম গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেন বাইডেন। একই সঙ্গে গাজা ও ইসরায়েলে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। বলেন, ‘গাজা হাসপাতালে বিস্ফোরণে যারা মারা গেছে তাদেরসহ ফিলিস্তিনি জীবনের মর্মান্তিক ক্ষতিতে আমি দুঃখিত।

তবে এটি (হামলা) ইসরায়েলিরা ঘটায়নি।’
হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে বাইডেন বলেন, এ সংঘাতের ঝুঁকির বিষয় হলো, এই বিশৃঙ্খলা বিশ্বের অন্যান্য অংশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করছে। এতে পরিস্থিতি আরো স্থিতিশীল এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে অন্য দেশের সম্পর্ক আরো ভালো হবে।

বাইডেন তাঁর ভাষণে হামাসকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘হামাস এবং পুতিন বিভিন্ন ধরনের হুমকির প্রতিনিধিত্ব করে। তারা উভয়ই গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চায়। ইউক্রেন যে একটি রাষ্ট্র তা পুতিন স্বীকার করতে চান না।’

বাইডেন বলেন, তিনি ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষায় ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করবেন। এই লক্ষ্যে তিনি কংগ্রেসের কাছে একটি জরুরি অনুরোধ জানাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সব ধরনের ইসলামফোবিয়া এবং ইহুদি বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করতে হবে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, ‘আপনারা সবাই আমেরিকান। আমেরিকানদের অবশ্যই হিংসা ও বিদ্রোহ ত্যাগ করতে হবে। একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। মুসলিম, ইহুদি বা যে কারো বিরুদ্ধে সব ধরনের ঘৃণা মুছে ফেলতে হবে। মহান জাতিরা তাই করে এবং আমরা একটি মহান জাতি।’

ওভাল অফিসের ভাষণের আগে জো বাইডেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সমর্থন দিয়ে যাবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইউক্রেনে প্রায় ৪৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension